ইসলাম শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও ইসলামের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর কথা ও কর্মের মাধ্যমে মুসলিম সমাজকে এমন এক নৈতিকতার শিক্ষা দিয়েছেন, যেখানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ কেবল ব্যক্তিগত ভোগের বস্তু নয়; বরং তা অসহায় মানুষের অধিকার। এই সত্যটি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে নিম্নোক্ত হাদিসের কথাগুলো দেখুন—
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ فِي سَفَرٍ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ رَجُلٌ عَلَى رَاحِلَةٍ لَهُ قَالَ فَجَعَلَ يَصْرِفُ بَصَرَهُ يَمِينًا وَشِمَالاً فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم “ مَنْ كَانَ مَعَهُ فَضْلُ ظَهْرٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ ظَهْرَ لَهُ وَمَنْ كَانَ لَهُ فَضْلٌ مِنْ زَادٍ فَلْيَعُدْ بِهِ عَلَى مَنْ لاَ زَادَ لَهُ ” . قَالَ فَذَكَرَ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ مَا ذَكَرَ حَتَّى رَأَيْنَا أَنَّهُ لاَ حَقَّ لأَحَدٍ مِنَّا فِي فَضْلٍ .
আবূ সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এসময় এক ব্যক্তি সওয়ারীতে আরোহণ করে তার কাছে এলো এবং ডানদিকে ও বামদিকে তাকাতে লাগলো। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যার কাছে আরোহণের কোনো অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার কোনো বাহন নেই। আর যার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকে সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার খাদ্যদ্রব্য নেই। তারপর তিনি বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সম্পর্কে এমনিভাবে বললেন। এমনকি আমাদের মনে হলো যে, অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে আমাদের কারো কোনো অধিকার নেই। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭২৮)
হাদিসের শিক্ষা ও তাৎপর্য
১. সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিষ্ঠা: এই হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলামে ব্যক্তি-স্বার্থের চেয়ে সমাজের কল্যাণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ ভোগের জন্য নয়; বরং তা অভাবগ্রস্তের হক।
২. ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার বাস্তব রূপ : রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিম উম্মাহকে এমন এক ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ করতে চেয়েছেন, যেখানে একজনের অতিরিক্ত বাহন বা খাদ্য অন্যের দুঃখ লাঘবের মাধ্যম হয়।
৩. সম্পদের উপর মালিকানা সীমাহীন নয়: এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ইসলামে সম্পদের মালিকানা নিরঙ্কুশ নয়; বরং তা দায়িত্বপূর্ণ। যখন সমাজে কেউ বঞ্চিত থাকে, তখন অতিরিক্ত সম্পদের উপর ব্যক্তিগত দাবি নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যায়।
সফরের কষ্টকর অবস্থাতেও রাসূল (সা.) মানবিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যাত্রাপথেও মানবিকতা ভুলে না যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। যা প্রমাণ করে, পরিস্থিতি যেমনই হোক, মুসলমানের মানবিক দায়িত্ব কখনো স্থগিত হয় না।
৫. ইসলামী কল্যাণরাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি : এই হাদিস ইসলামী সমাজব্যবস্থার মৌলিক দর্শন তুলে ধরে; যেখানে কেউ অভুক্ত বা অসহায় থাকবে না, যতক্ষণ সমাজে কারো কাছে অতিরিক্ত সামর্থ্য রয়েছে।
মুফতি সাইফুল ইসলাম
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


