পাবনা-১ ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আপিল দায়ের করেছেন। আবেদনে পাবনা-১ ও ২ আসনে যথাসময়ে নির্বাচন ও নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এ আবেদন দায়ের করেন।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ইলেকশন কমিশনের নির্বাচন স্থগিতের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলেট ডিভিশনে আবেদন করেছি। ইনশাল্লাহ এই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টির শুনানি হবে।
এর আগে শনিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে।
এ বিষয়ে ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, গত ৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দেয়।
চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনি এলাকা ৬৮ পাবনা-১ ও ৬৯ পাবনা-২ এর সীমানা সংক্রান্ত সিএমপি আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাবনা-১ ও পাবনা-২ এর নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
এর আগে ৫ জানুয়ারি পাবনা-১ ও ২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বরের জারি করা গেজেট স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
২৪ ডিসেম্বরের জারি করা গেজেটের তথ্যানুযায়ী, পাবনা-১ (নির্বাচনি এলাকা : ৬৮) আসনের সীমানায় সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাবনা-২ (নির্বাচনি এলাকা : ৬৯) আসনের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—সুজানগর উপজেলা এবং উল্লিখিত একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন (বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন) ব্যতীত বেড়া উপজেলা। যদিও এই গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
এ স্থগিতাদেশের ফলে ইসির গত ২৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট কার্যকর হয়ে যায়। এতে নির্বাচন কমিশন সাঁথিয়া উপজেলাকে এককভাবে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া উপজেলাকে মিলিয়ে পাবনা-২ আসন হিসেবে চূড়ান্ত করে।
এর আগে ১৮ ডিসেম্বর পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া–সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল বিচারাধীন রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


