বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এসব অর্থ সাধারণ আমানতকারীদের টাকা; তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা উদ্ধার করে আমানতকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

Logo

Advertisement

বুধবার (১১ মার্চ) বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ আহ্বান জানান তিনি।

সভায় গভর্নর বলেন, সম্পদ পুনরুদ্ধারের এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কাম্য নয়। এসময় কোনো চাপ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সরাসরি গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেওয়ানি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাংকগুলোরই কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা ও গভর্নরের পরামর্শক ফারহানুল গনি চৌধুরী সম্পদ উদ্ধারের অগ্রগতি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে “সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্ট্যাটাসের হালনাগাদ” শীর্ষক বিষয় উপস্থাপন করেন।

এতে টাস্কফোর্সের সদস্য, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাহীরা, বিভিন্ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সরকার ফৌজদারি ও দেওয়ানি—এই দুই ধরনের আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। ফৌজদারি কার্যক্রম সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো তাদের অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান ও মামলা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় দেওয়ানি মামলা পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে।

আরও জানানো হয়, সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ পাচার ও বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়ানি কার্যক্রমের প্রথম ধাপে ছয়টি প্রধান মামলা নির্বাচন করা হয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে ১০টি ব্যাংক ইতোমধ্যে ৯টি আন্তর্জাতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৩৬টি নন ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে এ ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করেছে। তবে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো এখনো চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়ায় কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। তাদেরকে এনডিএ স্বাক্ষর দ্রুত করার জন্য আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

কিছু ব্যাংক ইতোমধ্যে বিদেশে পাচার হওয়া ঋণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ শুরু করেছে। প্রথম ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১০০টির বেশি মামলা নিয়ে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

গভর্নর বলেন, দেওয়ানি কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাংকগুলোরই কেন্দ্রীয় ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ উদ্ধারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.