নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-এর বরিশাল মহানগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আহসান শাহরুখ তার পিতার মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি পাননি। ফলে শেষবারের মতো পিতাকে দেখার জন্য তার স্বজনরা বাবার মরদেহ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেটে নিয়ে যেতে বাধ্য হন, যেখানে বাবা-ছেলের শেষ সাক্ষাৎ ঘটে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে মরহুমের মরদেহ কারাগারে নেওয়া হলে শাহরুখকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার বাবা আবুল বাশার মৃত্যুবরণ করেন।
জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ সার্কুলার রোডের নিজ বাসা থেকে পুলিশ আহসান শাহরুখকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন।
শাহরুখের স্বজন ও বন্ধু আল-আমিন জানান, এটি নিয়ে তাকে তৃতীয়বারের মতো গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ থানায় ডেকে নেওয়ার পর থেকেই পরিবার দুশ্চিন্তায় ছিল। ছেলের চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তার পিতা আবুল বাশার।
স্বজনদের অভিযোগ, প্যারোলে মুক্তির জন্য তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন। তবে রাজনৈতিক মামলার কথা উল্লেখ করে দীর্ঘ সময় কোনো সহযোগিতা মেলেনি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়; কেবল জেলগেটেই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হবে।
এরপর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে জেলগেটে উপস্থিত হন। সেখানে একসঙ্গে তিনজনের বেশি প্রবেশের অনুমতি না থাকায় মরদেহ বহন করতেও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে তারা জানান।
প্যারোলে মুক্তির আবেদনকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছিল, তবে তা নাকচ করে জেলগেটে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা জানান, আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তিনি তখন দাপ্তরিক কাজে বাইরে থাকায় হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। পরে জেলা প্রশাসক জেলগেটে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত দেন এবং সেই অনুযায়ী স্বজনদের জানানো হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


