পাটকাঠির মতো সাধারণ কৃষিজ বর্জ্যকে উন্নত প্রযুক্তির উপকরণে রূপান্তর করে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন গবেষকেরা। ড. এমডি আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল পাটকাঠি থেকে অত্যন্ত স্থিতিশীল, কার্যকর ও সক্রিয় গ্রাফিন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল Chemistry – An Asian Journal-এ।

গবেষণায় দেখানো হয়েছে, নিষ্ক্রিয় পরিবেশে সহজ তাপপ্রয়োগ পদ্ধতির মাধ্যমে পাটকাঠি ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক সংযুক্ত গ্রাফিন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব, ব্যয়সাশ্রয়ী এবং নবায়নযোগ্য কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পাট উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রক্রিয়ার শুরুতে পাটকাঠির গুঁড়া থেকে সক্রিয় কার্বন ন্যানোশিট তৈরি করা হয়। এরপর তা ২৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করে গ্রাফিন কাঠামো গঠন করা হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই গ্রাফিনে একস্তর গ্রাফিনের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বিদ্যমান, ত্রুটির পরিমাণ খুব কম এবং এর গঠন অত্যন্ত সুসংগঠিত।
ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ বিশ্লেষণে দেখা যায়, অতি সূক্ষ্ম ন্যানোশিটগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি ছিদ্রযুক্ত ত্রিমাত্রিক জালিকা তৈরি করেছে। মৌল বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে উপাদানটি প্রায় সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ কার্বন দ্বারা গঠিত।
এই গ্রাফিন তাপ ও রাসায়নিক পরিবেশে অত্যন্ত স্থিতিশীল। এটি বাতাসে প্রায় ৭০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপ সহ্য করতে সক্ষম এবং শক্তিশালী অ্যাসিডেও এর কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় না। পাশাপাশি সালফাইডের ইলেকট্রোঅক্সিডেশনে এটি শক্তিশালী ইলেকট্রোক্যাটালাইটিক কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা পরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও সেন্সর প্রযুক্তিতে এর ব্যবহার সম্ভাবনা বাড়ায়।
গবেষকদের মতে, পাটকাঠি থেকে তৈরি এই গ্রাফিন শুধু উৎপাদন খরচই কমাবে না, বরং কৃষিজ বর্জ্যের কার্যকর ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার একটি নতুন পথও উন্মোচন করবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


