সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে‑স্কেলের (নতুন বেতন কাঠামো) চূড়ান্ত সুপারিশ আগামী মধ্য জানুয়ারির মধ্যেই জাতীয় বেতন কমিশন সরকারের কাছে জমা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। আধিকাংশ সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত না হওয়া সত্ত্বেও এই সময়সীমা রক্ষা করাই কমিশনের লক্ষ্য বলে জানা গেছে।

পে‑স্কেলের সুপারিশের জন্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসে গঠিত এই জাতীয় বেতন কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল, তাই মিড‑জানুয়ারিতে জমা দেয়ার সময়সীমা মানা একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যপ্রক্রিয়ায় গ্রেড সংখ্যা, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণসহ বেশ কিছু মূল ইস্যু এখনও সিদ্ধান্তাধীন রয়েছে। গ্রেড সংখ্যা ২০টি রাখার, ১৬টি করা বা ১৪টিতে সীমাবদ্ধ করার মতো তিনটি প্রস্তাব দরকারে আলোচনায় আছে, যা সিদ্ধান্ত নিতে আরও একটি বা দুটি পূর্ণ কমিশন সভা প্রয়োজন হবে।
এমন সময়, সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন এই পে‑স্কেলকে নতুন আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। গত ডিসেম্বরে সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ পে‑স্কেল বাস্তবায়োরসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে জাতীয় সমাবেশও করেছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও এখনো সুপারিশ জমা পড়েনি, এতে নির্বাচন পূর্বে পে‑স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সময়সূচি অনুযায়ী, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সুপারিশ জমা দেয়াই লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা উল্লেখ করেছেন, কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং এটি সময়মতো জমা দিলে তা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও বাজেট বরাদ্দের পরে ২০২৬ সালের শুরুতে গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে। আগের পে‑স্কেল ২০১৫ সালে চালু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ দিন বেতন কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি, তাই এই নতুন কাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পে‑স্কেলের কৌশলগত গুরুত্ব উৎসাহ ও উদ্বেগ-দু’দিকে। কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বেতন‑ভাতার বাস্তব সহায়ক কাঠামো চাচ্ছেন, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বেতন বৃদ্ধির দাবি জোরদার হয়েছে। কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করায় বাস্তবায়ন সময়সূচি নির্ধারণে কিছু দেরি হলেও জানুয়ারির মধ্যেই সুপারিশ জমা দেয়ার উদ্যোগটি নিয়েছে, যা সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দিকে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।
পে‑স্কেলের সিদ্ধান্ত এবং তার বাস্তবায়ন কবে নাগাদ শুরু হবে তা নির্ভর করবে কমিশনের সুপারিশ, উচ্চপর্যায় পর্যালোচনা ও সংশোধিত বাজেট অনুমোদনের ওপর। ফলে কর্মচারীদের প্রত্যাশা ও বাস্তবায়নের গতি-উভয়ের মধ্যে রাজনৈতিক সময়সূচিও একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


