সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা, পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতা—এই তিন পৃথক মামলায় গ্রেফতার ও চালান প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম এবং ‘গ্রেফতার বাণিজ্যের’ অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্র, আসামিপক্ষের স্বজন ও আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগগুলোর বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করে বলেন, যাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সুযোগ রয়েছে, তাদের তুলনামূলক কম গুরুতর নাশকতা মামলায় যুক্ত করা হচ্ছে; আর যারা অর্থ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার মতো গুরুতর ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নাশকতা মামলায় আসামির চেয়ে বেশি গ্রেফতার:
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সিংগাইর উপজেলা ছাত্রদল নেতা মো. তরিকুল ইসলাম ভূইয়া হানিফ বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মারপিট, ছিনতাই ও নাশকতার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শহীদুর রহমান শহীদ, সমর আহমেদ সোহান, মহিদুর রহমান, নজরুল, কহিনুর, আলামিন, মীর মাছুদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আমজাদ হোসেন, জালাল উদ্দিন, উজ্জল, জিয়া, সাইদুল ইসলামসহ ২৬ জন এজাহারভুক্ত ও ৫০ জন অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে মোট ৭৬ জনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ১১৪ জনকে। অর্থাৎ এজাহারে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে ৩৮ জন বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে—যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সেসময় সিংগাইর থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন উপ-পরিদর্শক মাসুদুর রহমান। তৎকালীন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও গ্রেফতার বাণিজ্যের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর জের ধরে ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীরকে প্রত্যাহার ও উপ-পরিদর্শক মাসুদুর রহমানকে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন উপ-পরিদর্শক প্বার্থ শেখর ঘোষ। তিনি বদলি হওয়ার পর বর্তমানে তদন্তের দায়িত্বে আছেন উপ-পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।
এই মামলায় আব্দুস সামাদ নামের এক ব্যক্তিকে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ৪ মার্চ তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় নয় মাস পর একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর তাকে পুনরায় একই মামলায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় এসআই শফিকুল। প্রায় দুই সপ্তাহ কারাভোগের পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় তাকে মুক্তি দেন এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে সতর্ক করেন।
আব্দুস সামাদের স্বজনদের দাবি, নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একই মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগ মামলা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। ওইদিন দুপুরের পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হলে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।
এরই ধারাবাহিকতায় সিংগাইরের ধল্লা পুলিশ ক্যাম্পেও ৫ আগস্ট বিকেলে অংগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
এই প্রেক্ষাপটে সিংগাইর থানার ধল্লা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক দীপন দেবনাথ বাদী হয়ে ওই বছরের ২৫ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ জন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ধল্লা পুলিশ ক্যাম্পে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১১০ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের সকলেই আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাকর্মী অথবা সমর্থক।
তবে সিংগাইরের বলধারা, বায়রা, ধল্লা, জয়মন্টপসহ কয়েকটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী সরাসরি এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন না। তাদের ভাষ্য, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দেশত্যাগের পর স্থানীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে ছিলেন। ফলে পুলিশের বর্ণিত সময়সীমায় কয়েকশ’ নেতাকর্মীর সংগঠিতভাবে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ মামলায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন আসামীর স্বজনের অভিযোগ, এ মামলায় পলাতক নেতাকর্মীদের নাম যুক্ত করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে এবং নিরীহ কর্মী-সমর্থকদেরও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
২০১৩ সালের ঘটনার হত্যা মামলা—অগ্রগতিতে ধীরগতি?
২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সিংগাইরের গোবিন্দল এলাকায় ইসলামী ও সমমনা দলগুলো ডাকা হরতাল কর্মসূচি চলাকালে সিংগাইর থানা পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের হামলা ও গুলিতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর নতুন করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন গোবিন্দল গ্রামের মো. মজনু মোল্লা (৬০)।
মামলায় সিংগাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুর রহমান শহীদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম, সাবেক মেয়র আবু নাঈম মো. বাশার, সাবেক কাউন্সিলর মীর মো. শাহজাহান, আব্দুস সালাম, সাবেক যুবলীগ নেতা তমিজ উদ্দিন, সমেজ উদ্দিন, ফয়েজ খান, জহির, সাইফুল ইসলাম, বায়রা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান জিন্নাহ লাঠুসহ ১০৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ফলে মোট আসামীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭০৯ জন।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে মাত্র ৬৩ জন। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত বিপুলসংখ্যক আসামি থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতার হার এত কম কেন? অন্যদিকে, পুলিশ ফাঁড়ি পুড়ানোর মামলায় ৪০০ আসামির বিপরীতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে প্রায় ১১০ জন।
এদিকে সিংগাইর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে এ মামলার ন্যায়বিচারের দাবিতে গত মঙ্গলবার প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিক, সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিনুর রহমান সৌরভ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, বিএনপি নেতা আব্দুল রহিম, সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবু, আক্রাম হোসেন, মিজানুর রহমান, মুফতি আব্দুল্লাহ ফারুকীসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে নাজিমুদ্দিন মোল্লা, আলমগীর হোসেন, নাসির উদ্দিন ও হাফেজ শাহ আলম নিহত হন । ঘটনার সময় দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে উল্টো গুলিবর্ষণে জড়িত ছিল। এমনকি পুলিশের পোশাক পরিহিত কিছু ব্যক্তি এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।এ ঘটনায় থানা ও আদালতে পৃথক মামলা দায়ের হলেও মূল আসামিরা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বক্তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অনৈতিক সুবিধা আদায় ও বৈষম্যের অভিযোগ:
গ্রেফতারের পর জামিনে বের হওয়া একাধিক আসামী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রেফতারের পর সহজ জামিনযোগ্য মামলায় চালান দেয়ার প্রলোভনে মোটা অংকের টাকা দাবি করে পুলিশ। আর টাকা দিতে না পারলে হত্যা মামলায় চালান দেয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়। এসব আসামীদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক লাখ থেকে শুরু করে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে ভুক্তভোগীদের কেউই পুলিশের হয়রানির ভয়ে নাম প্রকাশ বা ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি।
আইনজীবীদের মতে, তিন মামলার গ্রেফতার পরিসংখ্যান তুলনা করলে তদন্তের গতি ও প্রয়োগে বৈষম্যের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, একজন আইনজীবী ও জুলাইযোদ্ধা হিসেবে দেশে প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা দেখতে চাই। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, ন্যায়বিচার ও ইনসাফ নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
তিনি আরো বলেন, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। তদন্তের মাধ্যমে যারা প্রকৃতপক্ষে দোষী প্রমাণিত হবেন, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে নির্দোষ ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হচ্ছে এবং অযথা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
মাহাবুবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এজাহারের তালিকার বাইরে থাকা ব্যক্তিদেরও আটক করে বিভিন্ন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, কিছু অসাধু নেতা ও প্রশাসনের একটি অংশ এ প্রক্রিয়াকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এমনও দেখা যায়, কাউকে গ্রেপ্তারের পর অর্থের বিনিময়ে কোন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করলে সুবিধা হবে কিংবা কোন মামলায় দিলে ভোগান্তি বেশি হবে—তা বিবেচনা করে চালান দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে টাকার অঙ্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হওয়ায় আব্দুস সামাদকে একই মামলায় দুইবার চালান দেয়ার বিষয়টি ক্লারিক্যাল মিসটেক। সংশ্লিষ্ট আদালতও এই বিষয়টি অবগত রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “গ্রেফতার ও চালান সম্পূর্ণভাবে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বাণিজ্যের অভিযোগ সঠিক নয়। তদন্তের স্বার্থে যাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদেরই সংশ্লিষ্ট মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
গ্রেফতার সংখ্যা ও মামলার প্রকৃতির মধ্যে অসামঞ্জস্য, একই ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেফতার এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ—এসব বিষয় সামনে রেখে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদারকি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে অযথা নির্দোষ মানুষকে গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দায়ের বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে ফাঁসানোর মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। যেকোনো মূল্যে এ ধরনের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ করা প্রয়োজন বলে তিনি জোর দাবি জানান।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন কচি বলেন, “একজন আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর একই মামলায় পুনরায় গ্রেফতার করা হলে তা আইনের পরিপন্থী। হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। কিন্তু একটি ঘটনার সঙ্গে অযথা বিপুলসংখ্যক মানুষকে জড়ানো তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”
তিনি আরো বলেন, “পুলিশের অন্যায়ের জন্য বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ফাঁড়ি পুড়িয়েছে। এই মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জড়ানো অন্যায়। এই মামলাকে ঘিরে পুলিশ আরেকটা বাণিজ্য শুরু করেছে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


