বছর দেড়েক আগে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মার্কিন টেলিভিশন তারকা স্টেফানি ফেয়ার। এবার বেআইনিভাবে গ্রেপ্তারের বিচার চেয়ে তিনি টেনেসাস হাইওয়ে পুলিশ বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। স্টেফানি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি পুরোপুরি মিথ্যা ছিল এবং পুলিশি গ্রেপ্তারের ফলে তার সম্মান এবং ক্যারিয়ার দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টেনেসাসের নাশভিলে এলাকা থেকে ২০২৪ সালের ২৩ জুন গ্রেপ্তার হন স্টেফানি। পুলিশ অভিযোগ করেছিল, তিনি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পুলিশের বডি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া সময় স্টেফানি বারবার নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন, কিন্তু পুলিশ জানিয়েছিল যে, তিনি সোব্রাইটি টেস্ট (শারীরিক ভারসাম্য পরীক্ষা) উত্তীর্ণ হতে পারেননি এবং তার চোখ অস্বাভাবিকভাবে কাঁপছিল।
গ্রেপ্তারের পর, স্টেফানি কারাগারে আটক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তার রক্ত পরীক্ষায় এটি প্রমাণিত হয় যে, তার শরীরে কোনো প্রকার মাদক বা অ্যালকোহল ছিল না এবং তিনি সঠিকই বলেছিলেন।
স্টেফানির আইনজীবী বেন রিবিন বলেন, এই মিথ্যা অভিযোগের কারণে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি তোলা ছবি এবং ঘটনার বিবরণ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায়, স্টেফানির বিরুদ্ধে বিদ্রুপ এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য হতে থাকে। নেটদুনিয়ায় একবার কোনো বদনাম ছড়িয়ে গেলে তা চিরকাল রয়ে যায়, যা তার জীবনে চিরস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়েছে।
এই ঘটনার পর, টেনেসাস রাজ্য সেনেটর রাউমেশ আকবরী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রায় ৪০০ জন মানুষকে মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা এই পরিসংখ্যান নিশ্চিত করেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু কাউন্টিতে হাইওয়ে পুলিশ ব্যাপক ভুল করছে।
তিনি আরও বলেন, এটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, কেউ যেন মিথ্যা গ্রেপ্তারের শিকার হয়ে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন না হয়।
স্টেফানি ফেয়ার এখনও মামলা নিয়ে আদালতের সামনে দাঁড়াবেন, তবে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
স্টেফানির মতে, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার শুধু তার সম্মানই নয়, তার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যতকেও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আইনজীবী এবং তার সহযোগীরা এই ঘটনাকে একটি বড় ধরনের অনৈতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং এর সঠিক বিচার চাচ্ছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


