পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এক ভিক্ষুকের কাছে কম দামে ওষুধ বিক্রির কারণে একটি ফার্মেসি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন সমিতির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কলাপাড়া পৌর শহরের প্রগতি মেডিকেল হল নামে ওই ফার্মেসি বন্ধের অভিযোগ ওঠে সমিতির বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো পটুয়াখালী জুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ফার্মেসিটির পরিচালক সুদীপ্ত পাল জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরের দিকে অসহায় এক ভিক্ষুক তার নিকট একটি ভিটামিন সিরাপ ক্রয় করতে আসেন। কিন্তু তার কাছে ওষুধটির নির্ধারিত পরিমাণ টাকা ছিল না। তবুও মানবিক কারণে তার কাছে কিছুটা কম দামে সিরাপটি বিক্রি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন সমিতির নেতারা এক দিনের জন্য ফার্মেসি বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেন। তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় সমিতি কর্তৃপক্ষ। ফলে গতকাল শুক্রবার ফার্মেসি বন্ধ রাখতে বাধ্য হই।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কলাপাড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাসোসিয়েশন সমিতির সভাপতি ইব্রাহিম খলিল বলেন, ফার্মেসি বন্ধ করতে সমিতি বা আমরা কোনো নির্দেশনা দেইনি। প্রগতি মেডিকেল ভেজাল ওষুধ বিক্রি করায় তার দায় স্বীকার করে এক দিনের জন্য দোকান বন্ধ রেখেছে। তারা প্রায়ই এমন কম দামে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে।
তিনি আরও বলেন, কাউকে দয়া দেখালে ওষুধ একেবারে ফ্রি দেওয়া উচিত ছিল। ওই ভিক্ষুকের কাছ থেকে সে ১০০ টাকা রেখেছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ক্ষমতা সংগঠনের রয়েছে কিনা জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
স্থানীয় অন্যান্য ফার্মেসি মালিকদের অভিযোগ রয়েছে সমিতির মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে তাদের সঙ্গে এক ধরনের অন্যায় করা হচ্ছে। সমিতির নেতাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কিছু গেলেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা।
স্থানীয় ফাতেমা মেডিকেল হলের মালিক মোশাররফ হোসেন বলেন, দাম কিছুটা কম রাখাকে কেন্দ্র করে এর আগে আমার কাছ থেকেও প্রায় ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে সমিতি কর্তৃপক্ষ। কিছু ওষুধের মোড়কে বেশি মূল্য লেখা (এমআরপি)। ওষুধগুলো কাস্টমারদের কাছে একটু কম দামে বিক্রি করার জন্য সমিতির নেতাদের কাছে বহুবার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা কখনও এ বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি হননি।
কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক বলেন, সমিতি বা সংগঠন কোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


