বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাণিখাদ্যের উৎপাদন খরচ কমিয়ে খামারিদের লাভ বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি স্মার্ট সফ্টওয়্যার উদ্ভাবন করেছেন। ‘বিএইউ-এফএস’ নামের এই সফ্টওয়্যারটি পোলট্রি, গবাদিপশু ও মাছের জন্য সাশ্রয়ী এবং সুষম খাদ্য তৈরিতে সহায়তা করবে।

জানা গেছে, ‘সফ্টওয়্যার সহায়তায় প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাদ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও কার্যকারিতা যাচাই’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এবং লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের অর্থায়নে এটি তৈরি করা হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শহিদুর রহমান।
গবেষকদের মতে, দেশে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস পোলট্রি খাত। বর্তমানে দেশে মাথাপিছু দৈনিক প্রায় ১৩৬ গ্রাম মাংস এবং বছরে ১৩৬টি ডিম উৎপাদিত হলেও মোট উৎপাদন ব্যয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। খাদ্যের পুষ্টিমান নির্ধারণে ভুল হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং উৎপাদনশীলতাও কমে যায়।
গবেষকরা জানান, নতুন এই সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে খামারিরা খাদ্য উপাদানের পুষ্টিমান ও বাজারমূল্য তুলনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা নিজেরাই মানসম্মত খাদ্য প্রস্তুত করতে পারবেন এবং কম খরচে লাভজনকভাবে খামার পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন।
অধ্যাপক শহিদুর রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এখনো প্রচলিত অভিজ্ঞতা, বইভিত্তিক তথ্য কিংবা খাদ্য উপাদানের রং ও গন্ধ দেখে খাদ্য তৈরি করে। অথচ একই ধরনের উপাদানের উৎস, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ভিন্নতার কারণে পুষ্টিমানে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা দেয়। এতে খাদ্যে কখনো পুষ্টির ঘাটতি আবার কখনো অতিরিক্ততা তৈরি হয়, যা উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি আরও বলেন, এ সমস্যা সমাধানে প্রায় ২৫০ ধরনের পোলট্রি খাদ্য উপাদানের ছবি, পুষ্টিমান ও ভৌত বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি ডিজিটাল চিত্রভিত্তিক খাদ্য তথ্যভান্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এতে খাদ্যের রং, আকার, গঠন ও মানসংক্রান্ত তথ্য সংযুক্ত থাকবে, যা খামারি ও খাদ্য প্রস্তুতকারীদের মানসম্মত উপাদান শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।
প্রাথমিকভাবে সফ্টওয়্যারটি বিনামূল্যে চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে এটি গ্রাহকভিত্তিক সেবায় রূপান্তর করা যেতে পারে বলেও জানান গবেষকরা। পাশাপাশি সফ্টওয়্যারটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা আরও জানান, আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যন্ত্রনির্ভর শিক্ষা ও চিত্র বিশ্লেষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্য উপাদানের ছবি বিশ্লেষণ করে পুষ্টিমান নির্ধারণের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারদর, পুষ্টিচাহিদা ও খাদ্যের গুণগত মান বিবেচনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাশ্রয়ী খাদ্য তালিকা তৈরির জন্য ব্যবহারবান্ধব একটি সফ্টওয়্যার উন্নয়ন করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



