ভারতের বাউল সংগীতের অন্যতম সাধক-শিল্পী কানাই দাস বাউল আর নেই। শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠ এলাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

প্রখ্যাত ভারতীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা Ranjan Palit সামাজিক মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই বাউল সাধক। বিশেষ করে গত দুই মাস ধরে তিনি যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসজনিত সমস্যাও ছিল।
কানাই দাস বাউল ছিলেন আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতের এক অনন্য প্রতীক। গ্রামবাংলার সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ছোটবেলা থেকেই দৃষ্টিহীন ছিলেন। কিন্তু প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি।
শৈশব থেকেই সংগীত ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল তার। পরবর্তীতে বাউল গুরুদের সংস্পর্শে এসে তিনি বাউল সাধনার পথ বেছে নেন। একতারা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে, মেলা ও আখড়ায় ঘুরে তিনি গেয়ে বেড়িয়েছেন মানবতা, প্রেম ও জীবনের গভীর দর্শনের গান।
তার কণ্ঠে যেমন ছিল বেদনার গভীরতা, তেমনি ছিল মানবতার প্রতি অকৃত্রিম আহ্বান। তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পী নন, বরং এক জীবনদর্শনের বাহক ছিলেন।
দেশ-বিদেশের নানা গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাউল গান পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেন কানাই দাস বাউল। ২০১৯ সালে তিনি ‘সহজিয়া সম্মান’ লাভ করেন।
প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ William Dalrymple তার আলোচিত গ্রন্থ Nine Lives-এ ‘The Songs of the Blind Minstrel’ শিরোনামে একটি অধ্যায় উৎসর্গ করেন এই শিল্পীর প্রতি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


