বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বা ফার্টিলিটি কমে যাওয়া একটি গুরুতর স্বাস্থ্যগত উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বংশগত কারণ বা পরিবেশ দূষণই নয়—আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিচিত খাবার নীরবে শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান নষ্ট করছে।

২০২৬ সালের আধুনিক ও ব্যস্ত জীবনযাত্রায় সুস্থ থাকতে এবং ভবিষ্যতে বাবা হওয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি—তা নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।
প্রজনন ক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর ৫টি খাবার
বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু খাবার পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং ধীরে ধীরে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস করে।
১. প্রক্রিয়াজাত মাংস (Processed Meat)
সসেজ, সালামি, বেকন কিংবা ক্যানজাত মাংস পুরুষদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এসব খাবারে উচ্চমাত্রায় প্রিজারভেটিভ, লবণ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া পুরুষদের শুক্রাণুর গঠন ও আকৃতি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়।
২. অতিরিক্ত চিনি ও কোমল পানীয়
সফট ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্ক এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে, যা সরাসরি শুক্রাণুর গতিশীলতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি চিনি থেকে সৃষ্ট অতিরিক্ত ওজন টেস্টোস্টেরন কমিয়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়ায়—যা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর।
৩. সয়াবিন ও সয়া-জাত খাবার
সয়াবিনে থাকা আইসোফ্ল্যাভোনস উদ্ভিদজাত ইস্ট্রোজেন হিসেবে কাজ করে। অতিরিক্ত সয়া মিল্ক, সয়াবিন বা সয়া প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীরের হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে। যদিও অল্প পরিমাণে সয়া ক্ষতিকর নয়, তবে অতিরিক্ত গ্রহণ শুক্রাণুর ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
৪. ট্রান্স ফ্যাট ও ভাজাপোড়া খাবার
ফাস্ট ফুড, পিৎজা, বার্গার ও অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এই ফ্যাট রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে এবং প্রজনন অঙ্গের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়া পুরুষদের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৫. প্লাস্টিক প্যাকেটের খাবার ও BPA
শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কীভাবে খাবার সংরক্ষণ করছেন তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্লাস্টিকের পাত্র ও বোতলে থাকা বিসফেনল-এ (BPA) নামের রাসায়নিক হরমোনের কার্যকারিতা ব্যাহত করে। প্লাস্টিক কনটেইনারে খাবার গরম করা বা প্লাস্টিক বোতলের পানি নিয়মিত পান করা পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে করণীয়
জিঙ্ক ও ফলিক অ্যাসিড: খাদ্যতালিকায় রাখুন কুমড়ার বীজ, ডিম, কলা ও সবুজ শাকসবজি
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: বিভিন্ন রঙের ফল ও বাদাম শুক্রাণুর মান উন্নত করে
নিয়মিত ব্যায়াম: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা করুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়। সময়মতো খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করলে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ও গুণমানে চোখে পড়ার মতো উন্নতি সম্ভব।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


