কিউবার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ওপর চাপ আরও জোরদার করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিনি একটি নতুন নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে কিউবাকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে তেল সরবরাহকারী যে কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এই আদেশে কিউবা সরকারকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক ‘অস্বাভাবিক এবং অসাধারণ হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি এমন এক সময়ে এলো যখন চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। ভেনেজুয়েলার তেল খাতের নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যকরভাবে ওয়াশিংটনের হাতে থাকায়, কিউবায় দীর্ঘদিনের তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে কিউবা খুব শীঘ্রই পতনের মুখে পড়বে কারণ তাদের কাছে এখন আর ভেনেজুয়েলার তেল বা রাজস্ব পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
নির্বাহী আদেশে দাবি করা হয়েছে যে কিউবা রাশিয়া, চীন, ইরান এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় মার্কিন বাণিজ্য সচিবকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যেন কিউবাকে জ্বালানি সহায়তা দেওয়া দেশগুলোর পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ‘অ্যাড ভ্যালোরম’ বা মূল্যভিত্তিক শুল্ক আরোপ করা হয়। এর ফলে বিশেষ করে মেক্সিকোর মতো দেশগুলো বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে, যারা বর্তমানে কিউবার অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী।
এদিকে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘নৃশংস আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কিউবাকে হুমকি হিসেবে দেখানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। দীর্ঘ ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা অর্থনৈতিক অবরোধকে আরও নিষ্ঠুর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টাকে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন। তার মতে, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কিউবা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী নীতিই একমাত্র হুমকি।
অন্যদিকে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম জানিয়েছেন যে তার দেশ সাময়িকভাবে কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তবে তিনি একে ওয়াশিংটনের চাপ নয় বরং মেক্সিকোর একটি ‘সার্বভৌম সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে কিউবার জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশ মেক্সিকো ও রাশিয়া পূরণ করলেও ভেনেজুয়েলার সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় দ্বীপরাষ্ট্রটি ভয়াবহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে কিউবার নেতৃত্বকে এখনই একটি সমঝোতায় আসতে হবে, অন্যথায় পরিণাম আরও ভয়াবহ হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


