টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মৃত্যুর ১০ দিনেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। এতদিন নীরব থাকার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন প্রিয়াঙ্কা। কখনও তালসারিতে যাওয়া, আবার কখনও টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে বৈঠকে অংশ নেওয়া—সব জায়গাতেই তার উপস্থিতি ছিল। তার মূল উদ্দেশ্য, ছেলে সহজ যেন ভবিষ্যতে বাবার মৃত্যুর প্রকৃত সত্য জানতে পারে এবং তদন্তে কোনো ঘাটতি না থাকে।
মঙ্গলবার টলিপাড়ায় কর্মবিরতির মধ্যেও শিল্পীরা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নেন, রাহুলের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সঙ্গে কাজ করবেন না। সেই বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লেখেন, এই কঠিন সময়ে সবাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাদের জন্য বড় শক্তি। তিনি বলেন, পুরো চলচ্চিত্র পরিবার যেন একসঙ্গে এক কণ্ঠে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে—যেখানে কোনো বিভাজন, রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই; আছে শুধু পারিবারিক বন্ধন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেউ রাহুলকে অভিনেতা হিসেবে, কেউ অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউ লেখক হিসেবে ভালোবেসেছেন। তার এই অকাল মৃত্যু পুরো শিল্পজগতকে একসূত্রে বেঁধেছে।
প্রিয়াঙ্কা আশা প্রকাশ করেন, এই মৃত্যু যেন শুধু শোকের স্মৃতি হয়ে না থাকে, বরং এটি বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা করুক। তার মতে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেটিই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, টেকনিশিয়ান বা শিল্পী—কারো মৃত্যুর পর যেন সম্মান ও মর্যাদার জন্য কাউকে লড়াই করতে না হয়।
এর আগে, গত ২৯ মার্চ রাহুলের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসার পর প্রিয়াঙ্কা সবার কাছে অনুরোধ করেছিলেন, এই কঠিন সময়ে যেন তাদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান জানানো হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


