ধর্ম ডেস্ক : রমজান হিজরি চান্দ্রবর্ষের নবম মাস, যা মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এটি তাকওয়ার মাস এবং পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস।
রমজান ও কোরআন
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
“রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে, তারা যেন এই মাসে সিয়াম পালন করে।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
“হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের (রোজার) বিধান দেওয়া হলো, যেমন সিয়ামের বিধান তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণকে দেওয়া হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩)
রোজাদারদের জন্য জান্নাতের বিশেষ তোরণ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“জান্নাতে রায়্যান নামক একটি বিশেষ তোরণ আছে। এ তোরণ দিয়ে কিয়ামতের দিন শুধু রোজাদারগণই প্রবেশ করবেন। তাঁদের প্রবেশের পরে এই দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে, তারা ছাড়া আর কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।” (বুখারি, খণ্ড: ৩, হাদিস: ১৭৭৫)
রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত
রমজান মাস ইবাদতের বিশেষ মৌসুম। এটি রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। রমজানের প্রধান ইবাদত হলো ‘সিয়াম’ বা রোজা পালন।
- তারাবিহ নামাজ: রমজানের বিশেষ উপহার তারাবিহ নামাজ।
- শবে কদর: এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
- কোরআন তিলাওয়াত: রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
- সদকাতুল ফিতর ও দান-খয়রাত: গরিব-দুঃখীদের সাহায্য করা রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- ইতিকাফ: শেষ দশকে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়া।
রমজানে ইবাদতের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়; শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়।” (বুখারি, খণ্ড: ৩, হাদিস: ১৭৭৮)
“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় রমজান মাসে সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারি, খণ্ড: ১, হাদিস: ৩৭)
রমজানের বিশেষ বিধান
রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজে আইন। এছাড়াও কিছু ওয়াজিব ও সুন্নত আমল রয়েছে:
ফরজ
- একটি পূর্ণ মাস রোজা রাখা।
ওয়াজিব
- সদকাতুল ফিতর প্রদান করা।
- ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করা।
সুন্নত
- সাহ্রি খাওয়া ও ইফতার করা।
- অধিক পরিমাণে দান-খয়রাত করা।
- কোরআন তিলাওয়াত করা।
- শেষ দশকে ইতিকাফ করা।
- শবে কদরের সন্ধান করা।
যাদের জন্য রোজার ছাড় রয়েছে
স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, সাবালক এবং রোজা পালনে সক্ষম মুসলিমদের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা রোজার বদলে ফিদিয়া দিতে পারেন:
- অসুস্থ ব্যক্তিরা, যারা পুনরায় সুস্থ হয়ে রোজা রাখার সম্ভাবনা নেই।
- অতিবৃদ্ধ ব্যক্তিরা, যারা রোজা রাখার সামর্থ্য হারিয়েছেন।
রোজার প্রতিদান
হাদিসে কুদসিতে নবী করিম (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেন,
“রোজা আমারই জন্য, আমিই এর বিনিময় প্রতিদান দেব।” (বুখারি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২২৬)
রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়। আসুন, আমরা সবাই এই পবিত্র মাসকে যথাযথভাবে কাজে লাগাই এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।