সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে গিয়ে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার এক প্রধান শিক্ষককে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় বিদ্যালয় এলাকা থেকে কয়েকশ ফুট উঁচু পাহাড়ে উঠে শেষ পর্যন্ত আমগাছের ডালে বসে অনলাইনে হাজিরা পাঠাতে বাধ্য হন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহেরের গাছে উঠে মোবাইল নেটওয়ার্ক খোঁজার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে, সম্প্রতি সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হচ্ছে।
নতুন এই নির্দেশনা কার্যকরের প্রথম দিনেই সমস্যায় পড়েন শিক্ষক আবু তাহের। তিনি জানান, বিদ্যালয়টি দুই পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট নিচে থাকায় সেখানে কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। বিদ্যালয়ের ছাদে উঠেও নেটওয়ার্ক না পেয়ে তিনি আশপাশের পাহাড়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়ে তিনি হাজিরার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে গাছে উঠে নেটওয়ার্ক পেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে হাজিরা পাঠাতে পেরেছি। তবে দেরি হওয়ায় ধমকও শুনতে হয়েছে।”
এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “চাকরি বাঁচাতে হলে ঝুঁকি নিতেই হয়। পরিবার চালানোর জন্য এ চাকরির ওপরই নির্ভর করতে হয়।”
এদিকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০৮টি স্কুলের মধ্যে প্রথম দিন ৫৩৮টি বিদ্যালয়ের অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ১৭০টি বিদ্যালয় নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে হাজিরা পাঠাতে পারেনি।
বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্চয়ন চাকমা জানান, উপজেলার ১১৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৮৮টি বিদ্যালয় থেকে অনলাইন হাজিরা পাওয়া গেছে। বাকি ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ফোর-জি নেটওয়ার্ক রয়েছে সেখান থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায় কিছু তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতলের তুলনায় পাহাড়ি এলাকায় অনলাইন হাজিরা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। অনেক এলাকায় এখনো মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছায়নি, ফলে বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনার অনুরোধ জানান তিনি।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন জানান, আপাতত হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার তালিকা কেন্দ্রীয় দপ্তরে পাঠানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



