সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিধান থাকলেও সেটি অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের ঘিওরে কয়েকটি সরকারি দপ্তরের বিরুদ্ধে। সেই দপ্তরগুলোতে মহান স্বাধীনতা দিবসে সরকারি বিধি অনুযায়ী উত্তোলন করা হয়নি জাতীয় পতাকা। এতে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠান সূচিতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে। তবে সরকারি এ নির্দেশনাকে মানেনি জেলার ঘিওর উপজেলা ভূমি অফিস, নির্বাচন অফিস, সমাজসেবা অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, প্রকৌশলী অফিস, শিক্ষা অফিস, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, যুব উন্নয়ন অফিস, মৎস অফিসসহ আরো কিছু অফিস। এমনি জাতীয় দিবসটিতে উপজেলা পরিষদের গেটের ডানে এবং বামে অবস্থিত শহীদ মিনার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নামফলকেও শ্রদ্ধা জানায়নি কেউ। দেখা যায়নি কোন পুষ্পস্তবক। দুটি স্থাপনাতেই ময়লা-আবর্জনা ও ধুলো-বালির স্তপ দেখা গেছে।
তবে ঘিওর উপজেলার ইউএনও অফিস, সাব রেজিস্ট্রার অফিস, কৃষি অফিস ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসসহ কয়েকটি দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা গেছে।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকার অবমাননার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা এবং সচেতন নাগরিকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু ঘিওরেই নয়, জেলার অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিসেও একই চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা হলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিভিন্ন উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীরা বলেন, স্বাধীনতা দিবসে অনেক সরকারি অফিসেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে দেখা যায়নি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দেশটি পেয়েছি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সকলেরই দায়িত্ব ও কর্তব্য। সাধারণ মানুষ এই দিবসটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেও অনেক সরকারি কর্মকর্তারাই অবহেলার চোখে দেখেন।
স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে জানতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নূরজাহান আক্তার সাথী, নির্বাচন কর্মকর্তা মোসাম্মৎ ফেরদৌসী বেগম ও সমাজসেবা কর্মকর্তা জয় কৃষ্ণ সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। তবে উপজেলা উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো : মতিয়ার রহমান মন্ডল মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ১৮টি দপ্তরের অফিস আমাদের ইউএনও স্যারের অফিসের অধীনে। ইউএনও স্যার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করায় আমরা আর উত্তোলন করিনি। তবে উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আজকের অনুষ্ঠানে আমরা অংশ গ্রহণ করেছি।
তিনি আরো বলেন, যেসব দপ্তরের আলাদা ভবন রয়েছে তাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা উচিৎ ছিল।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন ভবন নেই। পরিষদের ভবনেই আমাদের অফিস। উপজেলা প্রশাসনের ব্যানারেই আমরা দিবসটি পালন করি, আলাদা করে পালন করিনা। এজন্য আমাদের অফিসে জাতীয় পতাকাও উত্তোলন করা হয়না।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা সুলতানা নাসরীনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।