মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের মানিকগঞ্জ জেলা পর্যায়ের কয়েকজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্টে এসব নেতার নেতৃত্ব, কর্মীদের প্রতি উদাসীনতা এবং ব্যক্তিস্বার্থের অভিযোগ তুলে সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়দানকারী পলাশ মাহমুদ নিজের ফেসবুক পোস্টে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার উদ্দিন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে দলের কঠিন সময়ে সিনিয়র এ নেতা কোনো খোঁজখবর নেননি।
পোস্টে তিনি লেখেন, “৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোথায় আছি, কেমন আছি—একবারও খোঁজ নেননি। আপনার মতো নেতার পেছনে ঘুরে জুতা ক্ষয় করার চেয়ে একা থাকাই ভালো। নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বোঝেন না। কর্মীদের শুধু ব্যবহার করতেই জানেন। আবার নেতা হয়ে এসে নির্দেশ দেবেন, এলাকায় থাকতে দেবেন না বলে হুমকি দেবেন।”
তিনি আরও দাবি করেন, “৫ আগস্ট বিকেলেও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।”
অন্যদিকে, ছাত্রলীগের আরেক নেতা হামজা খান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আফছার উদ্দিন সরকার ও মানিকগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান জাহিদের ছবি পোস্ট করে তাদেরকে “মানিকগঞ্জের রাজনীতির দুই জিন্দালাশ” উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, “আপনাদের অবদান মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন ভুলে যায়নি, ভবিষ্যতেও ভুলবে না।”
হামজা খানের ওই পোস্টে বিভিন্ন ব্যক্তি মন্তব্য করে সিনিয়র নেতাদের সমালোচনা করেন। জেলা যুবলীগের এক শীর্ষ নেতা। তিনি মন্তব্য করেন, “মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে টাকার পাহাড় বানাইছে। মন্ত্রীর বিশ্বস্ত দুই সিপাহশালার।”
মোহাম্মদ আলী নামে একজন মন্তব্যে দাবি করেন, “আড়াই বছরেও কোনো কর্মীর খোঁজ নেয়নি। অথচ মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমরা দলের জন্য নিবেদিত ছিলাম, আছি এবং থাকব। তবে তেলবাজি করিনি, করবও না।”
মো. ফিরোজ হোসাইন বাবু লেখেন, “এরা আওয়ামী লীগ নয়, মন্ত্রী লীগ। এরা আওয়ামী লীগের নয়, মন্ত্রীর রাজনীতি করেছে।”
জগলুল কবির মিল্টন নামে আরেকজন মন্তব্যে অভিযোগ করেন, “মন্ত্রীর দুই ভাইও তার নাম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। এখন তারা সবাই গা-ঢাকা দিয়েছে। তৃণমূল তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না।”
এদিকে, মায়া খান নামে এক নারী নেত্রী ফেসবুকে জাহিদুর রহমান জাহিদের ছবি পোস্ট করে তাকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক ভাষায় একটি স্ট্যাটাস দেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতা সম্প্রতি ফেসবুকে জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সমালোচনা করে লেখেন, দলের দুঃসময়ে অনেক তৃণমূল নেতা-কর্মী ঝুঁকি নিয়ে সক্রিয় থাকলেও অনেক সিনিয়র নেতা নিজেদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত ছিলেন।
তিনি দাবি করেন, “আমরা ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। অথচ অনেক সিনিয়র নেতা বিরোধীদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্টো আমাদের কর্মকাণ্ডের কারণেই নাকি নেতাকর্মীরা বিপদে পড়ছেন বলে তারা নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব পোস্ট ও মন্তব্য নিয়ে মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। তবে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



