হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে রান্নায় ব্যবহৃত তেলের পরিমাণ ও ধরন খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শুধু পরিমাণই নয়, তেলের ধরনও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ভূমিকা রাখে।

আমাদের প্রতিদিনের খাবারে তেল অপরিহার্য—ফোড়ন, ভাজি বা ঝাল—সবকিছুতেই তেলের ব্যবহার থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত বা ভুল ধরনের তেল নিয়মিত খেলে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
কার্ডিওলজিস্ট ডা. গজিন্দর কুমার গোয়েল জানান, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের দৈনন্দিন তেল খাওয়ার পরিমাণ ৩–৪ চা-চামচ বা প্রায় ১৫–২০ মিলিলিটার হওয়া উচিত। এই হিসেব অনুযায়ী, মাসে একজনের জন্য ৫০০–৬০০ মিলিলিটার তেল নিরাপদ। চারজনের পরিবারে এই পরিমাণ প্রায় ২ লিটারের বেশি হওয়া উচিত নয়।
হৃদযন্ত্রের জন্য সেরা তেল
ডা. গোয়েলের মতে, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল ও জলপাই তেল হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর। তবে আমাদের দেশের রান্নার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হলো সরিষার তেল, কারণ এর স্মোক পয়েন্ট প্রায় ২৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা উচ্চ তাপে রান্নার সময় তেলের পুষ্টিগুণ ধরে রাখে।
সূর্যমুখী তেলও ভালো বিকল্প, কিন্তু জলপাই তেলের স্মোক পয়েন্ট কম হওয়ায় দৈনন্দিন রান্নায় তেমন উপযোগী নয়।
রিফাইন তেল এড়ানো জরুরি
রিফাইন বা পরিশোধিত তেলে উচ্চ তাপ ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ার কারণে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘ সময় এটি ব্যবহার করলে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পায়, যা ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণ হতে পারে।
অতিরিক্ত তেলের ক্ষতি
প্রতিদিন অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে ধমনিতে চর্বি জমা হয়, প্রদাহ বৃদ্ধি পায়, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। মাঝে মাঝে ভাজাপোড়া খাওয়া বড় সমস্যা নয়, তবে নিয়মিত অতিরিক্ত তেল স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নিরাপদ তেলের পরিমাণ
দৈনন্দিন: ১৫–২০ মিলিলিটার
প্রতি সপ্তাহে: ১০৫–১৪০ মিলিলিটার
প্রতি মাসে: ৫০০–৬০০ মিলিলিটার
হৃদরোগ আক্রান্ত ব্যক্তিরা অবশ্য আরও কম তেল ব্যবহার করবেন। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এমন রোগীদের মাসে ৭৫০ মিলিলিটার তেলের বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়। তেলের মধ্যে ৮০% সরিষার তেল এবং ২০% ঘি বা মাখন ব্যবহার করলে স্বাদ ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
সঠিক তেল বেছে নেওয়া এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আজ থেকেই রান্নার তেলের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।
সূত্র: আজতক বাংলা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


