সাইফুল ইসলাম : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ-১ আসনে বহিরাগত ব্যক্তি ও কর্মী প্রবেশের প্রস্তুতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াতের নেতাকর্মীদের আনার পরিকল্পনার তথ্য মিলেছে। এ নিয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা তিনটার দিকে মানিকগঞ্জের গোলড়া এলাকার একটি খাবার হোটেলে চার ব্যক্তির কথোপকথনে এমন পরিকল্পনার কথা উঠে আসে।
আলাপচারিতায় তাঁরা নিজেদের জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁদের একজন প্রকৌশলী উজ্জ্বল, যিনি নিজেকে আটিগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি বলে দাবি করেন।
কথোপকথনে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া, সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা মানিকগঞ্জ-১ আসনে গিয়ে দলীয় প্রার্থী ডা. আবু বকর সিদ্দিকের পক্ষে কাজ করবেন।
কীভাবে যাবেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সাংবাদিক পাস কার্ড ও গাড়ির স্টিকার সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সাংবাদিকের নাম জানতে চাইলে তিনি জানান, সাংবাদিকের নাম মমিনুল। তিনি নগর টিভি নামের একটি ফেসবুক পেজের এডমিন।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে আরো কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে এরকম চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি গাড়িতে একজন সাংবাদিক থাকবেন, বাকিরা যাবেন কর্মী হিসেবে।
এসব কথোপকথনের সময় জামায়াত নেতা দাবি করা সেই ব্যক্তি এই প্রতিবেদকের পরিচয় জানতেন না। এই প্রতিবেদক নিজেকে বেসরকারি চাকুরিজীবি বলে পরিচয় দিলে তিনি খোলামেলাভাবেই এসব বিষয়ে কথা বলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বাচনের সংবাদ কভার করার নামে সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড ও যানবাহনের স্টিকার সংগ্রহ করেছেন অনেক অখ্যাত, অনিবন্ধিত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, গাড়ি চালক, আইনজীবীর মহুরী ও পত্রিকার হকারও এবার সাংবাদিক হিসেবে কার্ড সংগ্রহ করেছেন। তাঁদের একটি অংশ নির্বাচনী কাজে প্রভাব বিস্তার বা নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকার উদ্দেশ্যে এসব কার্ড সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংবাদিক পরিচয়পত্রের অপব্যবহার হলে তা নির্বাচনী পরিবেশে ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং ভোটারদের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলতে পারে।
গোয়েন্দা নজরদারিতে বহিরাগত বিষয়
একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, মানিকগঞ্জ–১ আসনে বহিরাগত কর্মী প্রবেশের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতেও এসেছে। ভোটের দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় কর্মী এনে কেন্দ্রে বা আশপাশে অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী— ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার, অনুমোদিত নির্বাচনী এজেন্ট, নির্বাচন কর্মকর্তা ও বৈধভাবে অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাইরে অন্য কারও কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান নিরুৎসাহিত।
সাংবাদিক পরিচয়পত্র কেবল অনুমোদিত গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য প্রযোজ্য।
সাংবাদিক কার্ড বা স্টিকার ব্যবহার করে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে।
ভুয়া পরিচয় বা বিভ্রান্তিকর উপায়ে বিশেষ অনুমতি নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
মানিকগঞ্জের রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “বহিরাগত প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। সাংবাদিক কার্ড বা স্টিকার অপব্যবহারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অনিয়ম করলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বহিরাগত প্রবেশ ঠেকাতে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি জরুরি। পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিতরণ ও ব্যবহারে আরও যাচাই–বাছাই দরকার। এতে নির্বাচনী পরিবেশ স্বচ্ছ রাখা সহজ হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


