রমজান মানেই আত্মশুদ্ধি, সংযম ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো। তবে ইফতারের সময় অনেকেরই অনাকাঙ্ক্ষিত সঙ্গী হয়ে ওঠে বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর ও অস্বস্তিকর অ্যাসিড রিফ্লাক্স। সারাদিন রোজার পর হঠাৎ ভারী খাবার খাওয়া, বদলে যাওয়া ঘুমের সময়সূচি ও অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য সচেতন থাকলেই পুরো মাসটি স্বস্তিতে কাটানো সম্ভব।

কেন রমজানে অ্যাসিডিটি বাড়ে?
গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, রোজা নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হয় খাবারের সময় ও পরিমাণে আকস্মিক পরিবর্তনে। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার ফলে পাকস্থলী বেশি সংবেদনশীল ও অ্যাসিডিক হয়ে ওঠে। এরপর একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খেলে হজমে সমস্যা তৈরি হয় এবং বুকজ্বালা শুরু হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ—ইফতার ও সেহরিতে কি খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন—এই তিনটি বিষয়ই হজমের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে। অন্ত্রকে অনেক সময় “দ্বিতীয় মস্তিষ্ক” বলা হয়, তাই শরীরের সংকেত বোঝা জরুরি।
ইফতারে কীভাবে রোজা ভাঙবেন
ধীরে শুরু করুন
১–৩টি খেজুর ও কুসুম গরম পানি দিয়ে রোজা ভাঙুন। এরপর ১০–২০ মিনিট বিরতি নিন। এতে পাকস্থলী ধীরে ধীরে খাবারের জন্য প্রস্তুত হয়।
ধীরে খান, ভালোভাবে চিবান
ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে লালা বেশি তৈরি হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
ইফতারে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
-ভাজাপোড়া খাবার
-অতিরিক্ত মসলাযুক্ত পদ
-কোমল পানীয়
-বেশি চা–কফি
-টমেটোভিত্তিক সস ও টক ফল
-অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ভারী খাবার
-ইফতারে ভালো পছন্দ হতে পারে
-হালকা স্যুপ
-গ্রিল বা বেক করা মাছ/মুরগি
-সেদ্ধ সবজি
-হোল গ্রেইন রুটি
-পরিমিত ভাত
-সেহরি বাদ দেবেন না
-অনেকে ঘুমের কারণে সেহরি এড়িয়ে যান, যা অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে গ্যাস্ট্রাইটিস ও রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা বাড়ে।
সেহরির আদর্শ খাবার
-জটিল কার্বোহাইড্রেট: ওটস, ব্রাউন রাইস, আটার রুটি
-প্রোটিন: ডিম, দই, ডাল, পনির
-পর্যাপ্ত পানি
সেহরির পর করণীয়
-খাওয়ার পর অন্তত ৪৫–৬০ মিনিট শোবেন না।
-খাবারের পরের অভ্যাস
-ইফতার বা সেহরির পর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা সোজা হয়ে থাকুন
-ইফতারের পর হালকা হাঁটা উপকারী
-ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন
-খাবারের সময় অতিরিক্ত পানি পান করবেন না
-কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন
রমজানে ঘুমের রুটিন বদলে যায়, ফলে মানসিক চাপও বাড়তে পারে। এই চাপ সরাসরি হজমে প্রভাব ফেলে। তাই ধীরে খাওয়া, সচেতনভাবে পানি পান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রমজান সংযমের মাস। এই সংযম যদি খাদ্যাভ্যাসেও বজায় রাখা যায়, তাহলে বুকজ্বালা নয়—শরীর ও মন দুটোই থাকবে হালকা ও প্রশান্ত। ছোট ছোট সচেতন অভ্যাসেই পুরো মাস কাটতে পারে সুস্থ ও আরামদায়কভাবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


