আলোচিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার মারা গেছেন।

সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের মেডিক্লিনিক পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তিনি মারা যান।
ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক এই পরিচালকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বোন সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদারের ব্যক্তিগত সহকারী আবু সুফিয়ান।
সিকদার গ্রুপের মালিকাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা সুফিয়ান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রন হক সিকদার মারা গেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি রন হক সিকদারকে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের নানা খবরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার আলোচনায় নাম আসা এ ব্যাংকের সাবেক এই পরিচালক ওই সময় বিদেশে চলে গেছেন বলেও সংবাদমাধ্যমে এসেছে।
সোমবার রন হক সিকদারের মৃত্যুর খবর দেশে আসার পর সিকদার পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, এক সপ্তাহ আগে লিভার সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পাওয়া সিকদার গ্রুপের নেতৃত্বস্থানীয় অবস্থানে থাকা রন হক সিকদার নানা ঘটনায় খবরের শিরোনাম হয়েছেন।
২০২৪ সালের এপ্রিলে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়েই অর্থপাচারের অভিযোগে রন হক সিকদার ও তার ভাই রিক হক সিকদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা দুটি করেন। পরে ওই বছরের অক্টোবরে এ দুই মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদনের কথা জানায় সংস্থাটি।
দুটি মামলায় দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মোট ৭১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের সীমার বাইরে বিপুল অঙ্কের ডলার খরচ করে পরে সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের ১৯ মে এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গুলশান থানায় হত্যা চেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করে। মামলায় রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদারের বিরুদ্ধে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে নির্যাতন ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়।
রন হক সিকদার ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে আরও মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে থাইল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করছিলেন বলে খবরে এসেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনা তৈরি করা দুই ভাই ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক পদ হারান বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


