জাহিদ ইকবাল : বাংলাদেশে মোবাইল জার্নালিজম বা ‘মোজো’ যখন কেবল ধারণা থেকে বাস্তব রূপ নিচ্ছিল, ঠিক তখনই এই ধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেন সাব্বির আহমেদ।

২০২১ সালে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো সাংবাদিকের অফিসিয়াল ডেজিগনেশনে যুক্ত হয় ‘মোবাইল জার্নালিস্ট’ পদবি। সচিবালয়ের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডেও আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয় ‘Lead Mobile Journalist’—যা ছিল বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় এক নতুন মাইলফলক।
সে সময় মোবাইল জার্নালিজমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মোজো স্টেশনের বাইলাইন থেকে শুরু করে কনটেন্ট ডিসেমিনেশন—সবকিছুর পেছনে কাজ করে একটি নিবেদিত টিম। এই উদ্যোগের কনসালটেন্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মোবাইল জার্নালিজম বিশেষজ্ঞ ড. কাবিল খান জামিল, যিনি বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল জার্নালিস্ট হিসেবে পরিচিত। আর প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি ও নীতিগত সমর্থন জুগিয়েছিলেন আবেদ মনসুর—বাংলাদেশ টাইমস-এর প্রকাশক ও অগ্রযাত্রার প্রধান রূপকার।
এই পদক্ষেপের পর দেশের অন্যান্য গণমাধ্যমেও ‘মোবাইল জার্নালিস্ট’ পদবি গ্রহণ শুরু হয়। অনলাইন, প্রিন্ট ও টেলিভিশন প্ল্যাটফর্মে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টিংয়ের জন্য আলাদা নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হয়। বর্তমানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘মোবাইল জার্নালিস্ট’ একটি স্বীকৃত ও প্রচলিত পদ। বাংলাদেশ টাইমসের প্রথম মোজো টিমের সদস্যদের অনেকেই এখন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতৃত্বের ভূমিকায় কাজ করছেন।

পরবর্তী পর্যায়ে সাব্বির আহমেদের পেশাগত যাত্রায় আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ২০২৫ সালের শুরুতে প্রকাশকের উদ্যোগে তার পদবি উন্নীত করা হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মোবাইল জার্নালিজমের কাঠামো ও নেতৃত্ব মডেল বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হয় নতুন পদ—‘Mojo Editor-in-Chief’। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মোবাইল সাংবাদিকতায় প্রথমবারের মতো একটি ‘পিনাকল রোল’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে কনটেন্ট, টেকনোলজি ও স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট একসঙ্গে সমন্বিত হয়।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর সাব্বির আহমেদ মোবাইল জার্নালিজমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার শুরু করেন। আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্ভাবিত বিভিন্ন AI টুল নিয়ে গবেষণা ও প্রয়োগের মাধ্যমে নিউজরুমে প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কৃতি গড়ে তোলেন। স্ক্রিপ্ট ও শিরোনাম তৈরিতে Google Gemini, কনটেন্ট ডেভেলপমেন্টে AI Studio এবং অডিও ও মিউজিক প্রডাকশনে Suno AI ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় রিপোর্টিং টিমকে। ফলে মোজো কার্যক্রমে গতি ও বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশ টাইমসের ভয়েস ব্র্যান্ডিং, মিউজিক ডিজাইন এবং ডিজিটাল কনটেন্ট প্রোডাকশনের বিভিন্ন স্তরে AI একীভূত করা হয়। এতে নিউজরুম অপারেশন আরও গতিশীল ও সময়সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। কয়েক মাস আগে আয়োজিত এক বিশেষ সেশনে সব মোবাইল জার্নালিস্টকে বেসিক থেকে অ্যাডভান্সড AI টুল ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতার জন্য একটি কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রযুক্তিগত অভিযাত্রায় সাব্বির আহমেদের ব্যক্তিগত ব্যবহারেও যুক্ত হয়েছে নিউরাল-ব্যান্ড, মেটাগ্লাস ও উন্নতমানের মোবাইল এক্সেসরিজ, যার মধ্যে রয়েছে x300 লেন্স সিস্টেম—যা মোবাইল ক্যামেরাকে উচ্চতর ভিজ্যুয়াল সক্ষমতা প্রদান করে। মেটা ডিসপ্লে প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহারেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মোবাইল জার্নালিজমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, প্রযুক্তি সংযোজন এবং নেতৃত্ব কাঠামোর বিকাশ—এই তিনটি ক্ষেত্রে সাব্বির আহমেদের উদ্যোগ একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল মিডিয়া পরিবেশে মোবাইলভিত্তিক সাংবাদিকতাকে কৌশলগত ও প্রযুক্তিনির্ভর ধারায় রূপান্তরিত করার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য দিকনির্দেশক হয়ে উঠতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


