স্বাধীন সাংবাদিকতা না করতে পারলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মিলনায়তনে গণমাধ্যম সম্মিলনে ‘গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ’ নিয়ে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথ উদ্যোগে এ সম্মিলন।
এ কে আজাদ বলেন, সরকার যেকোনো সময় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ‘সুইচ অফ’ করে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ধরনের নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেমন– তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের সরকারি বিজ্ঞাপন কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া অতীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিজ্ঞাপন না দেয়, তার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোন সংবাদ যাবে, কোন সংবাদ যাবে না, তার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়।
সরকার যদি গণমাধ্যমের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করে তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। স্বাধীন সাংবাদিকতা না করতে পারলে দেশের উন্নয়নও সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্মিলনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, বিগত দেড় দশকে অনেক মিডিয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, নিপীড়ন ও নিষ্পেষণ করা হয়েছে, অনেক অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে, সম্পাদকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য যতদিন আকাঙ্ক্ষা থাকবে, এই লড়াইটা কিন্তু আমাদের চলবে। আমরা সেটি জেনেশুনেই মিডিয়াতে এসেছি। অন্য দশটা পেশার থেকে এটা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। এটি মহৎ পেশা, সেজন্য এটার যেমন রোমাঞ্চ আছে, থ্রিল আছে—একই রকম চ্যালেঞ্জও আছে।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘স্বাধীন জুডিসিয়ারি ও স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম একে অপরেরর পরিপূরক। কোর্ট অব কনটেম্পটের মতো ক্ষমতা যেন স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধে ব্যবহার না করা হয়, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের দলের লোক আপনাকে সত্য তথ্য দেবে না ভয়ে, আমলারা দেবে না, ইনটেলিজেন্সও দেবে না। তারা সব সময় আপনাকে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। সঠিক তথ্য সংবাদমাধ্যম আপনাদের জানাবে। এ জন্য এটিকে সুরক্ষা দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে উদারপন্থি দৃষ্টিভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
এ গণমাধ্যম সম্মিলনে অংশ নেন নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


