স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় টেনিস সুন্দরী সানিয়া মির্জা ও পাকিস্তানের ক্রিকেটার শোয়েব মালিকের ঘর কি সত্যি সত্যিই ভাঙছে? দুই ক্রীড়া তারকার দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদের জল্পনায় মশগুল গোটা দুনিয়া। গত কয়েক দিন ধরেই সানিয়া ও শোয়েবের বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনা বিস্তর জল-হাওয়া পেয়েছে।

সানিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিক

Advertisement

সানিয়া ও শোয়েবের বিচ্ছেদের জল্পনার খবর প্রথম ছড়ায় পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে। তার পর থেকেই সেই জল্পনা অনেক ডানা মেলেছে। কখনও কেউ দাবি করেছেন, দুই তারকার বিচ্ছেদ নাকি হয়েছে গিয়েছে। আবার কেউ দাবি করেছেন, দু’জনের মধ্যে বিচ্ছেদ শুধু মাত্র সময়ের অপেক্ষা।

সানিয়া ও শোয়েব নাকি একসঙ্গে থাকছেন না। এই খবর ঘিরেও চর্চা হয়েছে। মূলত এই খবরের সূত্র ধরেই যাবতীয় জল্পনার সূত্রপাত।

এই ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে সানিয়ার কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট এই আলোচনা আরও বাড়িয়ে দেয়। ইনস্টাগ্রামে টেনিস সুন্দরী লিখেছিলেন, ‘‘ভাঙা হৃদয় কোথায় যায়? ঈশ্বর খুঁজতে।’’ আবার ছেলে ইজহানের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে সানিয়া লিখেছিলেন, ‘‘মুহূর্তগুলো কঠিন সময় পার করে দেয়।” বিচ্ছেদ-জল্পনার আবহে সানিয়ের এ হেন বার্তা আলাদা তাৎপর্য পায়।

যদিও বিচ্ছেদের গুঞ্জন নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেউই মুখে রা কাড়েননি। বরং তাঁদের নীরবতা ও নানা মন্তব্য এই জল্পনায় আরও অক্সিজেন জোগাচ্ছে।

বিচ্ছেদের জল্পনার আবহে এ বার সানিয়াকে নিয়ে শোয়েবের একটি মন্তব্য প্রকাশ্যে এল। এক সাক্ষাৎকারে স্ত্রীর সম্পর্কে শোয়েবের এই মন্তব্য তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জনের আবহে নয়া মাত্রা যোগ করেছে।

সানিয়ার উদ্দেশে শোয়েব এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘আমি তোমায় বিয়ে করে তোমার চেয়ে বড় ঝুঁকি নিয়েছি।’’

দুই তারকার সংসার ভাঙনের জল্পনা যখন তুঙ্গে, সেই আবহে সানিয়াকে বিয়ের প্রসঙ্গে যে ভাবে ‘ঝুঁকি’র কথা বললেন শোয়েব, তা নিঃসন্দেহে এই পর্বে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

তবে সানিয়া সম্পর্কে এই মন্তব্য খুব ‘সিরিয়াস’ ভাবগতিক নিয়ে যে শোয়েব করেছেন তা নয়। এমনকি, শোয়েব যখন এই মন্তব্য করছেন, তখন তাঁর পাশেই বসে রয়েছেন স্বয়ং সানিয়া।

আসলে বিচ্ছেদের জল্পনার মধ্যেই সানিয়া ও শোয়েবের একটি শো আসছে। একটি ওটিটি মাধ্যমে ওই শোয়ের নাম ‘দ্য মির্জা মালিক শো’। সেই শোয়ের প্রচারের জন্যই একটি ভিডিও সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দু’জনের নানা খুনসুটি ধরা পড়েছে।

ওই ভিডিওতেই নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন সানিয়া ও শোয়েব। তেমনই একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, কে বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত? তার উত্তর দিতে গিয়ে সানিয়া নিজের দিকেই আঙুল দেখিয়ে বোঝান যে তিনিই বেশি ঝুঁকি নিতে তৈরি। আবার শোয়েবও সানিয়ার দিকে তাকান। তার পর অবশ্য মজাচ্ছলেই সানিয়া প্রসঙ্গে ওই মন্তব্য করেন শোয়েব।

শোয়েবের ওই কথা শুনে অবশ্য হেসেছেন সানিয়া। হাসতে হাসতেই টেনিস তারকা বলেছেন, ‘‘নিশ্চিত ভাবে আমিই ঝুঁকি নিয়েছি।’’

বিচ্ছেদের জল্পনার আবহে সানিয়া ও শোয়েবের এমন খুনসুটিপনা দেখে মজেছেন তাঁদের ভক্তরা। এমনকি, অনেকেই ফিসফাস করছেন যে, তা হলে কি দু’জনের মধ্যে ঝামেলা মিটে গিয়েছে! আবার কেউ ভাবছেন, সবটাই নাকি ‘চমক’।

কেউ কেউ আবার দাবি করেছেন যে, আসলে সবটাই নাকি লোক দেখানো। ওই শোয়ের জন্যই নাকি নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের শৈত্যকে আড়াল করে হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে এসেছেন দু’জন। এই শোয়ের জন্যই নাকি তারা বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করছেন না। শো শেষ হলেই নাকি এই ব্যাপারে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন। যদিও এই দাবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার অনলাইন।

কিছু দিন আগেই সানিয়া ও শোয়েবের ব্যাপারে মুখ খুলেছিলেন তাঁদের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বন্ধু দাবি করেন, ‘‘দু’জনের বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। ওঁরা এখন আলাদা থাকাও শুরু করে দিয়েছেন। এর বেশি আর কিছুই বলতে পারব না।’’

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই শোয়েব ও সানিয়ার খুনসুটিতে ভরা একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে এল। যা ঘিরে দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা আরও বাড়ল।

ওই সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, কে বেশি কেনাকাটা করেন। এর উত্তরে সানিয়ে জানিয়েছেন, দু’জনেই। সঙ্গে সঙ্গে শোয়েব আবার বলেছেন, ‘‘না, না তুমি।’’ প্রত্যুত্তরে সানিয়ে বলেছেন, ‘‘ঠিক আছে। মেনে নিলাম। তবে শোয়েবও অনেক কেনাকাটা করে।’’ এ কথা শুনে শোয়েব বলেন, ‘‘সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা তো ও মোবাইলে কেনাকাটা করতেই থাকে।’’

রসবোধ নিয়েও দু’জনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। দু’জনেই দাবি করেন যে, তাঁদের রসবোধ বেশি। তবে মজা করে সানিয়া বলেন, ‘‘শোয়েবের রসবোধ ও ছাড়া আশপাশের কেউই বোঝে না।’’

সানিয়া ও শোয়েবের একমাত্র সন্তান ইজহান। বাবা না মা, কে বেশি ইজহানের পছন্দ, জানতে চাওয়া হলে, শোয়েব দাবি করেন, ছেলে নাকি তাঁকেই বেশি পছন্দ করেন। আবার সানিয়া পাল্টা বলেছেন, ‘‘হতেই পারে না। আমিই ওর বেশি প্রিয়।’’

এতেই শেষ নয়। ওই সাক্ষাৎকারে দু’জনের আরও অনেক খুনসুটি ধরা পড়েছে। বাইরে যাওয়ার আগে তৈরি হতে কে বেশি সময় নেন? দু’জনেই একে অপরের দিকে তাকান। যেখানে ওই সাক্ষাৎকার শুট করা হচ্ছিল, সেখানে এক জনকে সানিয়া জিজ্ঞাসা করেন, ‘‘আপনিই বলুন, কে আগে তৈরি হয়েছেন আজ?’’ সানিয়ার এ কথা শুনে শোয়েব শুটিং ফ্লোরের ওই কর্মীর কাছে জানতে চান, সানিয়া তাঁকে ঘুষ দিয়েছেন কি না।

সংসার গোছানোর ক্ষেত্রে নাকি পারদর্শী শোয়েবই। ওই সাক্ষাৎকারে এ কথা মেনেও নিয়েছেন সানিয়া। আবার বেড়াতে গেলে শোয়েব যে প্রচুর টাকা খরচ করেন, সে কথাও তুলে ধরেছেন টেনিস তারকা। এর জবাবে শোয়েব পাল্টা বলেন, ‘‘আমি এক পদ দিয়ে খাই। আর তোমার অন্তত তিন পদ লাগে।’’

বিচ্ছেদের জল্পনার আবহে এর আগেও সানিয়া প্রসঙ্গে মুখ খুলেছিলেন শোয়েব। সেটা ছিল সানিয়ার জন্মদিন। গত ১৫ নভেম্বর সানিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে শোয়েব লিখেছিলেন, ‘‘সানিয়া, শুভ জন্মদিন। তোমার জীবন সুখে ভরে উঠুক। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হও, এই কামনা করি। আজকের দিনটা দারুণ ভাবে উপভোগ করো।’’

সানিয়ার জন্মদিনে শোয়েবের এ হেন শুভেচ্ছাবার্তা ঘিরেও চর্চা হয়। স্ত্রীকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে মাত্র তিন লাইনে লিখলেন শোয়েব! তা হলে কি বিচ্ছেদেই এর নেপথ্যে অন্যতম কারণ? আবার কেউ প্রশ্ন করেছেন, বিচ্ছেদের জল্পনা কি নেহাতই সস্তার জনপ্রিয়তার জন্য?

দুবাইয়ে বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে জন্মদিন পালন করতে দেখা গিয়েছে সানিয়াকে। কিন্তু সেখানে দেখা যায়নি শোয়েবকে।

মেয়েদের জামায় কেন পকেট থাকে না

এর মধ্যেই সানিয়া ও শোয়েবের সাক্ষাৎকার প্রকাশ্যে এল। যেখানে ছত্রে ছত্রে ধরা পড়ল দু’জনের খুনসুটি। চোখেমুখে হাসি। খ্যাতনামীদের নিয়ে অনেক জল্পনাই চলে। তা হলে কি এটাও সে রকমই কোনও এক জল্পনা, নাকি ‘আগে আগে দেখো হোতা হ্যায় ক্যয়া’ গোছের কিছু? আগামী দিনেই হয়তো এই ধোঁয়াশা কাটবে। সূত্র: আনন্দবাজার

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.