আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারাবন্দি ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। গত চারদিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে চার হাজার ৬৭ জন কারাবন্দি ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে কারাগার থেকে বলছে, ৬ ফেব্রুয়ারি সার্ভার জটিলতার কারণে দেশের কয়েকটি কারাগারে বেশ কয়েকজন কারাবন্দি তাদের ভোট দিতে পারেননি। নির্বাচন কমিশনের সার্ভার অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকায় সংশ্লিষ্ট কারাবন্দিদের কিউআর কোড স্ক্যান ও ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) জান্নাত-উল ফরহাদ রাতে বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ হাজার ৯৬০। গত চারদিন ধরে কারাবন্দি ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত সর্বমোট চার হাজার ৬৭ জন ভোট দিয়েছেন। তবে আজ বেশ কয়েকজন কারাবন্দি ভোট দিতে পারেননি, কারণ সার্ভার অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকায় ভোটারদের কিউআর কোড স্ক্যান করা সম্ভব হয়নি।
এ সমস্যাগুলো সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ৭ ফেব্রুয়ারি আবার ভোটের কার্যক্রম চলবে।
এদিকে কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, সার্ভারে কিছুটা স্যামসা হওয়ার কারণে বেশ কয়েকজন কারাবন্দি ভোট দিতে পারেননি। তবে নির্বাচন কমিশন যদি বলে, আরও একদিন মানে ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটের কার্যক্রম চালু রাখা হবে।
তবে ভোটের কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী আমরা সম্পূর্ণ ক্লোস করে দিয়েছি।
অন্যদিকে জানা যায়, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে কারাবন্দিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাবনা অনুমোদনের পর নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে বেশ কয়েকজন কারা কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ভোট দিতে আগ্রহী কারাবন্দিদের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।
পরে নির্বাচন কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা মোট পাঁচ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় প্রতিটি কারাগারে কারা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পোলিং এজেন্ট ও প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কারা কর্মকর্তাদের নির্বাচন কমিশন থেকে সম্মানী দেওয়া হবে।
কারা সূত্র আরও জানায়, প্রত্যেক কারাবন্দি ভোটারের নামে আলাদা খামের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট কারাগারে পৌঁছায়। প্রতিটি ভোটারের কিউআর কোড আছে। ভোট দেওয়ার আগে কিউআর কোড স্ক্যান করে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপে অনুমোদন দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ভোটারের তথ্য ও এলাকার প্রার্থীদের তালিকা প্রদর্শিত হয়। সেই প্রার্থীদের তালিকা প্রিন্ট করে বন্দিদের হাতে দেওয়া হয়।
এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বন্দি বুথে প্রবেশ করে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন তার পছন্দের ব্যক্তি ও প্রতীকে। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে ওই ভোটার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। সাধারণত কারাগারের বাইরের ভোটকেন্দ্রে আঙুলে কালি দেওয়ার মাধ্যমে ভোট দেওয়ার প্রমাণ রাখা হয়। তবে আজ সার্ভার অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকায় বেশ কয়েকজন কারাবন্দির কিউআর কোড স্ক্যান করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা নির্ধারিত দিনে ভোট দিতে পারেননি।
এদিকে কেরানীগঞ্জে বিশেষ কারাগারে বন্দি আছেন ছাত্র জনতার আন্দোলনবিরোধী ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও এর অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের সাবেক অনেক নেতা ও সাবেক মন্ত্রী-এমপি।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তাদের মধ্যে ভোটার হয়েছিলেন ইনু-মেননসহ আনুমানিক ২২ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। একই কারাগারে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সচিবরা ভোট দিলেও ইনু-মেনন আজ ভোট দিয়েছেন কিনা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে কারাগার থেকে কেউ জানাতে পারেননি। তবে গতকাল কারা সূত্র জানিয়েছিল, ইনু-মেনন ভোটার হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তারা ভোট দেননি পাশাপাশি তারা আর ভোট দিতেও ইচ্ছুক নন, তাদের কার্যক্রমই বলে দিচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


