সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলের আরার শহরের কাছাকাছি মরুভূমির একটি গুহায় গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন সাতটি চিতার প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত মমি। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বন্যপ্রাণী জরিপ চালানোর সময় National Center for Wildlife-এর বিজ্ঞানীরা এই বিস্ময়কর আবিষ্কারটি করেন।

শুষ্ক পরিবেশে প্রাকৃতিক সংরক্ষণ
গবেষণায় দেখা গেছে, অত্যন্ত শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে চিতাগুলোর কঙ্কাল ও নরম টিস্যু স্বাভাবিকভাবেই মমিতে পরিণত হয়েছে। মরুভূমির কম আর্দ্রতা এবং গুহার ভেতরের অনুকূল পরিবেশ দেহাবশেষগুলোকে হাজার বছর পর্যন্ত অক্ষত রাখতে সহায়তা করেছে।
সম্প্রতি এসব মমির ডিএনএ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য, যা আরব উপদ্বীপে চিতা পুনর্বাসন পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
ধারণা বদলে দিল ডিএনএ বিশ্লেষণ
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, সৌদি আরব অঞ্চলে কেবল এশীয় চিতার বিচরণ ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গেছে, এখানে উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকান চিতারও উপস্থিতি ছিল। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Communications Earth & Environment-এ।
এই তথ্য প্রমাণ করে, আরব উপদ্বীপ একসময় বিভিন্ন চিতা প্রজাতির জন্য প্রাকৃতিক সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করত। এটি শুধু চলাচলের পথ নয়, বরং হাজার বছরের আবাসস্থলও ছিল।
বিস্ময়কর আচরণ
গবেষক দলের প্রধান আহমেদ আল বৌগ জানিয়েছেন, চিতা সাধারণত গুহায় আশ্রয় নেয় না। ফলে গুহার ভেতরে এতগুলো চিতার উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত শুষ্ক জলবায়ুই তাদের দেহকে প্রাকৃতিকভাবে মমিতে রূপান্তর করেছে।
গুহা থেকে মোট ৫৪টি বিড়ালজাতীয় প্রাণীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো নমুনাটি প্রায় চার হাজার বছরের প্রাচীন। আবার কিছু মমি মাত্র একশ বছরের পুরোনো—যা ইঙ্গিত দেয়, ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সময় পর্যন্ত চিতা এই অঞ্চলে টিকে ছিল।
সংরক্ষণে নতুন আশা
গবেষক আদ্রিয়ান টরডিফের মতে, ডিএনএ বিশ্লেষণের ফলে এখন নির্দিষ্টভাবে জানা যাচ্ছে, কোন প্রজাতির চিতা এই অঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই। ফলে পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলে বসবাসকারী প্রজাতির কাছাকাছি চিতা বেছে নেওয়া সম্ভব হবে।
বর্তমানে সৌদি আরবে বিস্তৃত সংরক্ষিত অঞ্চল রয়েছে, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ কম এবং প্রাকৃতিক শিকার ব্যবস্থাও পুনর্গঠিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, সঠিক প্রজাতি নির্বাচন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিতা ফিরলে মরুভূমির বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য আবার ভারসাম্য ফিরে পাবে।
সূত্র: সিএনএন
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


