টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলুকে ঘিরে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ প্রায় ২৩ বছর ধরে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না হয়েও বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে সেলিমুজ্জামান সেলু প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৩ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আগের সরকারের সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি বেতন উত্তোলন অব্যাহত রাখেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সরকার পরিবর্তনের পর তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন এবং সেখানে সভাপতি নির্বাচিত হন। ছয় মাস মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন না দিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সেই দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, তিনি একাধারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকের রাজনৈতিক পদে থাকা বা সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয় এবং এতে চাকরি হারানোর ঝুঁকি থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, তিনি খুব কমই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন এবং বেশিরভাগ দাপ্তরিক কাজ বাসা থেকেই সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা বিএনপি সভাপতি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে অবহেলা হলে দল তার দায় নেবে না।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক সেলিমুজ্জামান সেলু তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে সেগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



