রমজানের শেষ দিনগুলো এসে পৌঁছেছে। ক্ষমার সাগরে ডুব দিয়ে জীবনের সোনালী মুহূর্তগুলো কুড়ানোর সময় এখন আর খুব কম। এখনই সময় একটি অন্তর্মুখী হিসাব করার—পহেলা রমজান থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কী অর্জন করেছি, রহমত ও মাগফিরাতের দশকগুলো থেকে কতটুকু লাভ করতে পেরেছি। যদি হিসাব শেষে দেখা যায় যে কিছু অর্জন ও যোগ হয়েছে, তবে আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ সেই অর্জন অনেক বেশি করে দেবে।

হাদিসে বলা হয়েছে, রমজানে একটি ফরজ আদায় করলে তার সওয়াব সাধারণ সময়ের সত্তরের সমান হয়। আর একটি নফল ইবাদত করার ফলে ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লেখা হয়। এই সুবর্ণ সুযোগ আর কোনো মাসে পাওয়া যায় না।
প্রিয় পাঠক, যদি হিসাব করে মনে হয় কিছু অর্জন হয়নি বা আগের চেয়ে পাপ বেড়ে গেছে, তবে এটা খুবই দুঃখজনক। নবীজির সরাসরি হুঁশিয়ারি রয়েছে এমন জীবনের জন্য। হাদিসে বর্ণিত আছে, একবার রাসুল (সা.) মিম্বারের সিঁড়িতে পা রাখার সময় তিনবার ‘আমিন’ বলেছিলেন। সাহাবীরা জানতে চাইলেন কেন। নবীজি জানালেন, জিবরাইল এসে তিন শ্রেণির পাপীর জন্য দোয়া করেছেন। প্রথম শ্রেণির মানুষ, যারা বৃদ্ধ বাবা-মা থাকলেও জান্নাত অর্জন করতে পারেননি। দ্বিতীয় শ্রেণি, যারা রমজান পেয়েও গোনাহ মাফ করতে ব্যর্থ। তৃতীয় শ্রেণি, যারা নাম শুনেও দরুদ শরিফ পড়বে না। প্রতিটি দোয়ার শেষে নবীজি ‘আমিন’ বলেছিলেন (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৪১০)।
আমরা যখন পৃথিবীতে আর্থিক ক্ষতি, প্রিয়জনের মৃত্যু বা অন্যান্য বিপদের সম্মুখীন হই, তখন কষ্ট অনুভব করি। কিন্তু যেসব রমজানের দিন হাতছাড়া হয়ে গেছে, তা কখনও পূরণ করা সম্ভব নয়। এই দিনগুলো আখেরাতের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ।
সুযোগ একবার হাত ছাড়া হলে তা আর ফিরে আসে না। যেমন, তীর ধনুক থেকে বের হয়ে গেলে আর ফিরে আসে না, তেমনই মুখের কথা একবার বলা হলে তা ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। বেফাঁস কথা, আলসেমি বা সময় অপচয় আমাদের মূল্যবান সময় এবং সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। তাই মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী বলছেন, এখনই সময় সচেতন হওয়ার, শেষ মুহূর্তগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যয় করার।
শেষ দশকের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর ইবাদত, নামাজ, দান, নফল এবং তাওবা দিয়ে পূর্ণ করুন। শয়তানের প্রতারণা ও ধোঁকা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। এই রমজান শেষ হওয়ার আগে আল্লাহর কাছ থেকে নাজাত ও রহমতের অংশ গ্রহণ করতে সচেষ্ট থাকুন।
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


