স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সরকারের দেওয়া চারা রোপণ করবে এবং নিয়মিত পরিচর্যা করবে। এ প্রক্রিয়ায় গাছের বৃদ্ধি ও পরিচর্যার মান শিক্ষকরা পর্যবেক্ষণ করবেন।

বার্ষিক পরীক্ষার রিপোর্ট কার্ডে পরিবেশবিষয়ক মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার জন্য নম্বর যুক্ত করা হবে। যেসব শিক্ষার্থী তাদের রোপণ করা গাছ যথাযথভাবে বড় করতে পারবে, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি নম্বর পাবে।
বিএনপি সরকারের ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ মার্চ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে যুক্ত করার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা হবে। তারা নিজ বাড়ি, স্কুল প্রাঙ্গণ, খেলার মাঠ এবং আশপাশের খালি জায়গায় গাছ লাগাবে। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা গাছের পরিচর্যা শিখবে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তার রোপণ করা গাছের দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষকরা নিয়মিতভাবে গাছের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
এছাড়া, স্থানীয় বন বিভাগ ও কৃষি অফিসের মাধ্যমে চারা সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে সম্পৃক্ত করে গাছ লাগানোর স্থান নির্ধারণ করা হবে। শিগগিরই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বছরে অন্তত ১ কোটি গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করা। এর মাধ্যমে পরিবেশ ও জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে। একই সঙ্গে তাদের সাফল্য গণমাধ্যমে প্রচার করা হবে, যা তাদের আরও উৎসাহিত করবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হবে। ‘একটি শিশু, একটি গাছ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাউশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা দেবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


