লাইফস্টাইল ডেস্ক : নীরার হাসি নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন, “শাড়ির আঁচলে হাসি, ভিজে চুলে, হেলানো সন্ধ্যায় নীরা আমাকে বাড়িয়ে দেয়, হাস্যময় হাত”। আনন্দ কিংবা প্রেম- সুখানুভূতি প্রকাশের চিরন্তন মাধ্যম হাসি। কিন্তু জানেন কি শুধু সুখ নয়, মন খারাপের সঙ্গে যু্ঝতেও সহায়তা করে হাসি? সম্প্রতি একটি গবেষণায় উঠে এল এমনই তথ্য।
বিজ্ঞানপত্রিকা ‘জার্নাল অফ পজিটিভ সাইকোলজি’তে প্রকাশিত গবেষণাটি জানাচ্ছে, সম্প্রতি মোট ৫৭ জন ব্যক্তির উপর একটি পরীক্ষা চালানো হয়। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের হাত বরফ শীতল জলে চুবিয়ে রাখতে বলা হয়। সাধারণত কোনও ব্যক্তির যন্ত্রণা সহ্য করার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয় এই পদ্ধতিতে। এই অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের হৃদস্পন্দনের হার এবং মুখের অভিব্যক্তি নথিভুক্ত করেন গবেষকরা। দেখা গিয়েছে, জলে হাত চুবিয়ে রাখার সময় যে ব্যক্তিরা হেসেছেন তাঁদের হৃদস্পন্দনের হার তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। গবেষকরা জানাচ্ছেন, সাধারণত কোনও কষ্টের কাজ করার সময় কিংবা উদ্বেগের সময় আমাদের হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলাফল বলছে, হাসির ফলে হৃদস্পন্দনের হার ধীর এবং স্থিতিশীল হয়েছে।
ফলাফল দেখে গবেষকদের মনে হয়েছে, হাসি নিছক সুখানুভূতি প্রকাশের মাধ্যম নয়। এটি ভাল মানসিক অবস্থারও লক্ষণ। অর্থাৎ হাসি হয়তো আক্ষরিক অর্থে শারীরিক যন্ত্রণা কমাতে পারে না, কিন্তু শারীরিক যন্ত্রণা হওয়ার ফলে যে মানসিক চাপ তৈরি হয় তা অনেকটাই লাঘব করতে পারে। ফলে যন্ত্রণা হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনেক বেশি রিলাক্সড থাকতে পারেন। বিষয়টিকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হচ্ছে, ‘ফেসিয়াল ফিডব্যাক হাইপোথিসিস’। তাই গবেষকদের দাবি, উদ্বেগ কিংবা কষ্ট যারই সম্মুখীন হতে হোক না কেন, হাসি মুখে থাকাই শ্রেয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।