সবকিছুকে মব বলা ঠিক হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। কিছু সংঘটিত, পরিকল্পিত অপরাধ তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয় বলেও তিনি জানান৷

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানেন ৷ এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ৷
রুমিন ফারহানা তার প্রশ্নে বলেন, আমাদের সম্পূরক প্রশ্নের বিধিনিষেধ যদি এত কড়াকড়িভাবে করেন তাহলে আমরা কী করে মন্ত্রিপরিষদকে জবাবদিহী তার আওতায় আনব। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি বাংলাদেশের মানুষের কপাল এমন যে মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ সবসময়ই থাকে। দীর্ঘ ১৫ বছর ঘুম বিচার বহির্ভূত হত্যা হেফাজতে নির্যাতন নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে পা ভেঙে ফেলা অসুস্থ করে দেওয়া এ কালচার ছিল।
এরপরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা দেখলাম মব কালচার ২০২৪ এর সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ এর জানুয়ারি পর্যন্ত আমাদের যে পরিসংখ্যান সেটা বলছে যে আড়াইশ’, তিনশ’, এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এ মবের শিকার হয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন যেহেতু একটা খারাপ কালচার বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এবং আমি নিজেও ২১ ফেব্রুয়ারি সেটার একজন ভুক্তভোগী ৷ সেটা বন্ধ করার ব্যাপারে সরকার কি পদক্ষেপ নেবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে কী কী পদক্ষেপ নেবেন ৷
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যত পরিসংখ্যান তিনি দিয়েছেন ২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে এ ২৬ এর জানুয়ারি পর্যন্ত সে পরিসংখ্যাটা আমার কাছে নেই ৷ তবে আমাদের কাছে অনুমান আছে আমরা সরকারের দায়িত্ব পেয়েছি, আমি এটা ক্ষমতা বলতে চাই না আমরা এই রেসপন্সিবিলিটিটা পেয়েছি, এ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আজকে আমরা প্রায় ৪৫ দিনও এখনো হয়নি। দেড় মাস হয়নি। এর মধ্যে ঠিক মব নয়, মবের মত, কারণ এখানে ডেফিনেশন আলাদা করতে হবে।
কোনটা গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে থানায় গিয়ে হামলা। সেটা কি মব হবে? নাকি কোনটা ২২ ফেব্রুয়ারিতে সদস্যের ওপরে হামলা হয়েছে। সেটা কি মব হবে? নাকি উত্তরা একটা বিজনেস সেন্টার, উত্তরা স্কয়ার সম্ভবত নাম সেখানে ঘেরাও করে দোকানপাট ভাঙচুর করেছে সেটা কি মব হবে ৷ সবকিছুকে মব বলা ঠিক হবে না ৷ কিছু আছে সংঘটিত পরিকল্পিত অপরাধ তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং সেটা তদন্ত হয়, গ্রেপ্তার হয় এবং বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয় ৷
তিনি আরও বলেন, স্পষ্ট উচ্চারণ আমরা করেছি দায়িত্ব নেওয়ার পরে বাংলাদেশে কোনো রকমের মব কালচার আর থাকবে না। রাস্তাতে যেকোন দাবি নিয়ে মহাসড়ক সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের যে প্রবণতা ইন্টেরিম গভমেন্টের সময় দেখা গেছে ক্ষেত্রবিশেষে সে গভমেন্টের দুর্বলতার কারণে ইন্সপায়ারড হয়েছে সেটাকে আমরা কখনো এলাও করব না।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে দাবি থাকবে। সেই দাবির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে, মন্ত্রণালয়ের কাছে, ডিপার্টমেন্টের কাছে অবশ্যই দাবি নামা স্মারক দেওয়া যাবে ৷ সেজন্য জনমত সৃষ্টির জন্য সেমিনার সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে এবং প্রয়োজনে সেটা একটা জনসমাবেশের মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে ৷
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, এগুলো আমরা এনসিওর করব, সেটা করা যাবে, ডেমোক্রেটিক কালচার ৷ কিন্তু মবের মাধ্যমে যেন আমরা সবাই এ সমস্ত দাবি আদায় প্রবণতা থেকে বেরিয়ে, যখন সেটা মব হবে মবের ডেফিনেশন আলাদা স্পেসিফিক ক্রাইম হবে ক্রাইমের ডেফিনেশন ৷ আলাদা কোথাও থানায় গিয়ে আক্রমণ হবে সেটা আলাদা আমি এ প্রসঙ্গটা এখানে তুলছি না কারণ এটা একটা রাজনৈতিক বক্তব্য তখন হয়ে যাবে ৷ কোনোদিন যদি সে বিষয়ে কেউ নোটিশ দেয় সেটা করবো অথবা আমারও ইচ্ছা আছে দুই একদিন পরে ৩০০ বিধিতে আমি একটা বিবৃতি দেবো ৷
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


