জুমবাংলা ডেস্ক : সম্প্রতি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নিয়ে হতাশার ছায়া পড়েছে। বিশেষ করে, দেশের শিক্ষার্থীদের সামনে মানসিক চাপ এবং স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা এক আতঙ্কজনক রূপ নিলে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরাও। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা-গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এখন আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
Table of Contents
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মানোন্নয়নে একটি বিশেষ কর্মশালায় এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। “মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্প” নামক এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউজিসি দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার উপর ফোকাস করতে চায়।
ইউজিসির উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা
প্রফেসর ফায়েজ কর্মশালায় বলেন, “সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আমরা ১০,০০০ শিক্ষার্থীর সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।” তিনি এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি টিম হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ইউজিসি’র এই পদক্ষেপ মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং সেই সঙ্গে তাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
এই উদ্যোগটি ইউজিসি ও ইউনেস্কোর যৌথ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং প্রফেসর ড. মাছুমা হাবীব। তারা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলি মোকাবেলার জন্য শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, kaারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বর্তমান পরিস্থিতি
দেশের তরুণ প্রজন্ম এখন একটি গুরুতর মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা সেই চাপের মধ্যে নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানোর জন্য সংগ্রাম করছে। ইউজিসি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর ফায়েজ মনে করেন এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আরও গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করা আমাদের কর্তব্য।”
এছাড়া, প্রফেসর মাছুমা হাবীব শিক্ষকদের দায়িত্ব এবং সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের চাপ কমাতে প্র্যাকটিভ ভূমিকা নিতে হবে।”
এই কর্মশালায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ হেলথ ইকোনমিক্সের প্রফেসর ড. শাফিউন নাহিন শিমুল “র্যাপিড নিডস অ্যাসেসমেন্ট টুলস ভ্যালিডেশন” বিষয়ক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য উপযুক্ত নির্দেশনাও দেন।
কর্মশালার ফলাফল এবং আরো প্রয়োজনীয়তা
কর্মশালা শেষে ইউজিসি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসিক স্বাস্থ্য কর্মী ও কাউন্সিলরের উন্নতির ওপর গুরুত্ব দিতে উৎসাহিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরো কার্যকরী এবং সহযোগী ভূমিকা রাখতে হবে।
এই প্রকল্পটি শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের উন্নতিকেও প্রাধান্য দিচ্ছে। ইউজিসি মনে করে এটি একটি মর্যাদার বিষয় এবং এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হবে।
গত ৬ মে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের উপস্থিতি ছিল। লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংগঠনগুলো মানবতার কল্যাণে নজর দিচ্ছে, যা সত্যিই একটি আশাজাগানিয়া খবর।
যোগাযোগের প্রয়োজনে আরও তথ্যের জন্য, আপনি যেতে পারেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অফিসিয়াল সাইটে।
FAQs
প্রশ্ন ১: ইউজিসির নতুন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য কীভাবে উপকারী?
উত্তর: ইউজিসির সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য প্রকল্প শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করবে।
প্রশ্ন ২: মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষকদের ভূমিকা কী?
উত্তর: শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের মানসিক দিকগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং সক্রিয় সহায়তা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে অনেকাংশে সাহায্য করবে।
প্রশ্ন ৩: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন কিভাবে হবে?
উত্তর: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ইউজিসি থেকে নির্দেশনা ও সমর্থন দেওয়া হবে এবং সেখানে কাউন্সিলর নিয়োগ করা হবে।
প্রশ্ন ৪: কি কারণে শিক্ষার্থীর মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে?
উত্তর: জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগই আসন্ন চাপের মূল কারণ।
প্রশ্ন ৫: এই প্রকল্পের আওতায় কোন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কাজ করবে?
উত্তর: ২২টি সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রকল্পে সম্পৃক্ত থাকবে।
প্রশ্ন ৬: শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?
উত্তর: স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক তথ্যের জন্য ইউজিসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট পরিদর্শন করা যেতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।