ইতিহাসের প্রতিটি যুগেই মানুষের মুখে শোনা যায়; সময় ভালো যাচ্ছে না, জুলুম বাড়ছে, ন্যায়বিচার দুর্বল হচ্ছে। শাসকের নির্যাতন, সমাজের অবক্ষয় ও চারপাশের অস্থিরতা মানুষকে হতাশ করে তোলে।

এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের করণীয় কী?অভিযোগ, বিদ্রোহ না কি ধৈর্য ও ঈমানি দৃঢ়তা? এই প্রশ্নের জবাব রাসুলুল্লাহ (সা.) বহু আগেই সুস্পষ্টভাবে দিয়ে গিয়েছেন-
عَنْ الزُّبَيْرِ بْنِ عَدِيٍّ قَالَ أَتَيْنَا أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ فَشَكَوْنَا إِلَيْهِ مَا نَلْقَى مِنْ الْحَجَّاجِ فَقَالَ اصْبِرُوا فَإِنَّهُ لاَ يَأْتِي عَلَيْكُمْ زَمَانٌ إِلاَّ الَّذِي بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم.
যুবায়র ইবনু আদী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আনাস্ ইবনু মালিক (রা.)-এর নিকট গেলাম এবং হাজ্জাজের নিকট থেকে মানুষ যে জ্বালাতন ভোগ করছে সে সম্পর্কে অভিযোগ পেশ করলাম।
তিনি বললেন, ধৈর্য ধর। কেননা, মহান প্রতিপালকের সাথে মিলিত হবার পূর্ব পর্যন্ত (অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্বে) তোমাদের উপর এমন কোনো যুগ অতীত হবে না, যার পরের যুগ তার চেয়েও বেশী খারাপ নয়। তিনি বলেন, এ কথাটি আমি তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। (বুখারি, হাদিস : ৭০৬৮)
হাদিসটির মূল শিক্ষা
১. সময়ের অবক্ষয় একটি বাস্তবতা : রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সময় যত এগোবে, মানুষের জন্য পরীক্ষা তত কঠিন হবে।
নৈতিকতা, ন্যায়বিচার ও আমানতদারির অবনতি ঘটবে। তাই যুগের অবস্থা দেখে ঈমান হারানো নয়; বরং এটিকে পরীক্ষার অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
২. জুলুমের সময়ে মুমিনের প্রধান অস্ত্র ধৈর্য : শাসকের নির্যাতন, সামাজিক অবিচার ও ব্যক্তিগত কষ্টের মুখে হঠকারী প্রতিক্রিয়া নয়; বরং ধৈর্য, আত্মসংযম ও আল্লাহর ওপর ভরসাই মুমিনের সঠিক পথ। এই হাদিস তা শিক্ষা দেয়।
৩. হতাশা নয়, ঈমানি প্রস্তুতি : হাদিসটি ভবিষ্যৎকে আরও কঠিন বলে জানালেও এটি হতাশার আহ্বান নয়। বরং এটি মানসিক প্রস্তুতির বার্তা; যাতে মুমিন সময়ের কঠিন বাস্তবতায় ভেঙে না পড়ে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


