দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্থিরতা যেন থামছেই না। একদিকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এখনো সংকট কাটেনি রান্নার অন্যতম জ্বালানি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের। অন্যদিকে চালসহ মাছ-মাংস ও সবজির দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ।

জ্বালানি সংকট আর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছে মানুষ। বিক্রেতারা বলছে, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে প্রায় প্রতি কেজি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ানবাজার, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ ও রায়েরবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সপ্তাহে বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহ ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, সিম ৬০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, দেশি শশা ৮০টাকা, করলা ১০০ টাকা, গাজর (দেশি) ৪০টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ১৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৪০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সংকট কাটেনি এলপিজি সিলিন্ডারের
সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এখনো সংকট কাটেনি রান্নার অন্যতম জ্বালানি এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা তুলনায় বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ কম থাকার কারণে সরকারের নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করা যাচ্ছে না। তাঁদের অভিযোগ দেশের বড় বড় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতি মুনাফা লাভের চেষ্টা করছে।
রায়েরবাজারের এলপিজি সিলিন্ডার নিতে আসা গৃহিণী ফরিদা আখতার বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছি না। পেলেও আবার দাম বেশি চাচ্ছে। আজকে আমি একটি পেয়েছি দাম রেখেছে দুই হাজার ২০০ টাকা। এখন বাধ্য হয়ে নিয়েছি। আমাদের তো রান্না করে খেতে হবে।”
বেড়েছে চালসহ মাছ-মাংসের দাম
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ করা থাকার অজুহাতে ফের বেড়েছে চালের দাম। বিক্রেতারা বলছেন, গত সপ্তাহের তুলনায় মানভেদে প্রায় চালের দাম কেজি প্রতি ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন বাজারে এখন মানভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়, বিভিন্ন ব্রান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৭৬ থেকে ৮০ টাকা, মাঝারি মানের ব্রি-২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকা, স্বর্ণা ও গুটি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। এছাড়াও চিনিগুঁড়া পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায়।
এ সপ্তাহে বাজারে বেড়েছে মাছ মুরগির দাম। বাজারে এখন বড় আকারের চাষের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫০ টাকায়। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ থেকে ৩২০, দেশি শিং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি সাইজের পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ও ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে বেড়েছে মুরগি গরু ও খাসির মাংসের দাম। এ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে। সোনালি জাতের মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। গরুর মাংস ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ থেকে ১৩০০টাকায়। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০থেকে ১১৫ টাকায়।
যা বলছে ক্রেতা বিক্রেতারা
মৌসুমী সবজি দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে কারওয়ানবাজারের সবজি বিক্রেতা সোহেল বেপারি বলেন, “হঠাৎ করে সবজির সরবরাহ চাহিদা তুলনায় কম। দেশের উত্তরাঞ্চলের বাঁধ ভেঙে সবজি নষ্ট হওয়ার কারণে এটা হতে পারে। আবার পরিবহন খরচ ও আগের তুলনায় বেড়েছে। সবজির এই সময় সবজির দাম যা থাকার কথা তার থেকে কিছু বাড়তি আছে। এতে আমাদের কোন হাত নেই।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
হাজারীবাগ বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রাকিব হাসান সুমন বলেন, “আমাদের বেতন বাড়ে না। অথচ প্রতি সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। আমাদের মত বেসরকারি চাকরিজীবীদের এখন না খেয়ে থাকার অবস্থা। এ সপ্তাহে চাল থেকে শুরু করে মাছ- মাংস সবজি সব কিছুর দাম বাড়তি দেখলাম। পকেটের হিসেব না মিলাতে পেরে ডিম নিয়ে চলে যাচ্ছি।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


