দৃশ্যত ছোট হলেও প্রভাবের দিক থেকে শনির চাঁদ এনসেলাডাস যেন মহাকাশের দৈত্য। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ছোট চাঁদটি বিস্তৃত মহাকাশে তড়িৎচৌম্বক ঢেউ ছড়াচ্ছে। এই ঢেউ ৫ লাখ কিলোমিটারেরও বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা শনির চারপাশের পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।

গবেষণাটি হয়েছে নাসা, ইউরোপ ও ইতালির মহাকাশ সংস্থার যৌথ প্রোজেক্ট ক্যাসিনির মাধ্যমে। ক্যাসিনি মহাকাশযান এনসেলাডাসের পাশ দিয়ে বহুবার উড়ে গেছে এবং নানা যন্ত্র ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরু থেকে নিয়মিত পানি ও ধুলোর ফোয়ারা বের হয়। মহাকাশে গিয়ে এই কণাগুলো চার্জযুক্ত হয়ে শনির চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে মিশে বিশেষ ধরনের ঢেউ তৈরি করে। এই ঢেউকে বলা হয় ‘আলফভেন উইং’, যা চৌম্বক রেখার沿 ছড়িয়ে পড়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এই ঢেউ শুধু নিকটবর্তী এলাকায় নয়, প্রায় ৫ লাখ ৪ হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি এনসেলাডাসের ব্যাসার্ধের প্রায় দুই হাজার গুণ বেশি। গবেষকরা ৩৬ বার এমন ঢেউয়ের চিহ্ন পেয়েছেন।
ফ্রান্সের গবেষক লিনা হাদিদ বলেন, এতদিন এনসেলাডাসের সম্পূর্ণ প্রভাব জানা ছিল না। এই গবেষণা শনির চারপাশে চাঁদের ভূমিকা নতুনভাবে বোঝার সুযোগ দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যদি এনসেলাডাসে মহাকাশ অভিযান হয়, সেখানে এই তড়িৎচৌম্বক প্রভাব আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করা হবে। ছোট হলেও এনসেলাডাস প্রমাণ করল—মহাকাশে আকার নয়, প্রভাবটাই বড় বিষয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


