জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীর বাজারে সবজি ও মাছ-মুরগির দাম বাড়তি। এখনো কাটেনি ভোজ্য তেলের সংকট। বিক্রেতারা বলছেন, তারা চাহিদা অনুযায়ী পণ্য অর্ডার দিয়ে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, দাম বাড়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর হাজারীবাগ, নিউমার্কেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
ক্রেতারা জানান, হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলও সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। তুলনামূলক বড় দোকানগুলোতে পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।
বিক্রেতাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের পর থেকেই বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। এই সুযোগে বড় কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩ থেকে ৪ টাকা করে বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাড়তি মাছ মুরগি ও সবজির দাম:
সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অজুহাতে গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহের বাড়তি রয়েছে মাছ মুরগি ও সবজির দাম। এখন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ এবং সোনালি মুরগির বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়। বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা কেজিতে।
বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি শিং ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ৭৫০ টাকা, রূপচাঁদা ১৫০০, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের বেড়েছে সবজির দাম। এখন বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা। সিম ৮০ টাকা, দেশি শশা ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, গাজর (দেশি) ৫০টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটল ৮০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।
এছাড়া, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মুদি বাজারে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
যা বলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সয়াবিন তেলের বিক্রেতা রাজু আহমেদ বলেন, “আমরা ডিলারদের কাছ থেকে অর্ডার অনুযায়ী তেল পাচ্ছি না, ১০০ লিটার অর্ডার দিলে পাই ৬০ লিটার। বাজারে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল কম। বড় বড় কোম্পানি সরকারকে চাপে রেখে দাম বাড়ানো চেষ্টা করছে। এখানে আমাদের খুচরা ব্যবসায়ীদের কোনো হাত নেই। আমরা প্রতি লিটারে দুই এক টাকা লাভ করি। খোলা সয়াবিন ও পাম ওয়েলের দাম ও বাড়তি।”
রাজধানীর নিউমার্কেটের সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা গৃহিণী তানজিলা আক্তার বলেন, “এখন বাজারে কোনো কিছুতেই হাত দেওয়া যায় না, সব কিছুরই দাম বাড়তি।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি বলেন, “পণ্যের দাম বাড়লেও আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের আয় বাড়েনি। তাই চাহিদা মেটাতে নানা জায়গায় অনেক কাটছাঁট করতে হচ্ছে। সরকারকে বলব, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে মনোযোগ দেন।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


