বছরের পর বছর ধরে লাভের আশায় পশু লালন-পালন করা অনেক ব্যাপারীর জন্য এবারের কোরবানির ঈদের হাট হয়ে থাকলো হতাশা আর লোকসানের এক তিক্ত স্মৃতি। বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুমি ব্যবসায় লাভের আশায় ঢাকায় গরু নিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত লোকসানের বোঝা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে অনেককে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর অস্থায়ী পশুর হাট গিয়ে দেখা যায়, অনেক ব্যাপারী গরু নিয়ে মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছেন। ক্রেতা না পাওয়ায় এসব গরু তারা এখন গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। কয়েকজন ব্যাপারীকে বিক্রি না হওয়া গরু ট্রাকে তুলতে দেখা যায়।
কুষ্টিয়া থেকে ১০ জন মিলে ৩০টি গরু নিয়ে এসেছেন মো. সোহেল আলী। তিনি জানান, ৩০টা গরুর মধ্যে মাত্র দুটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি ২৮টি গরু এখন গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
সোহেল আলী বলেন, এবার আমাদের অনেক লোকসান হয়ে গেলো। সবগুলো গরু নগদ টাকা দিয়ে কিনে এনেছি। ৩০টা গরুর কিনতে ৫০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। দুটি গরু ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে এগুলো আবার লালন পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, এ বছর যে অবস্থা তাতে আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এমন অবস্থা হয় বলে গ্রামের মানুষ বাকিতে গরু দেয় না। ধার-দেনা করে আমরা গরু কিনে হাটে নিয়ে আসি। এই গরু ফিরিয়ে নিয়ে যেতে গাড়ি ভাড়া লাগবে ৩৩ হাজার টাকা।
কুষ্টিয়ার মিরপুর থেকে চারটা গরু নিয়ে আসা আরেক ব্যাপারী জানান, চারটা গরুর মধ্যে তিনি দুটো গরু বিক্রি করেছেন। তাতে এক লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বাকি দুইটি গরু বিক্রি না হযওয়ায় এখন তিনি গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, যে দুটি গরু বিক্রি হয়নি ক্রেতারা তার দাম বলছে এক লাখ টাকা করে। অথচ এই গরু কেনা দেড় লাখ টাকা দিয়ে। গরু গ্রামে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাক ভাড়া করেছি ৩৩ হাজার টাকায়। আমার সঙ্গে আরও কয়েকজন ব্যাপারী একই ট্রাকে গরু নিয়ে যাবেন। মোট ২২টি গরু যাবে এক ট্রাকে।
কুষ্টিয়া থেকে গরু নিয়ে আসা মো. জামাল মন্ডল বলেন, ১০টা গরু নিয়ে এই হাটে এসেছিলাম। এর মধ্যে মাত্র চারটি বিক্রি হয়েছে। বাকি ছয়টা এখন ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যে গরু আমাদেরই কেনা পড়েছে আড়াই লাখ টাকা দিয়ে, সেই গরুর দাম ক্রেতারা বলছে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। আবার কেউ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ হাটে এবার সিন্ডিকেট করেছে। এই সিন্ডিকেট করে আমাদের বিরাট সর্বনাশ করে দিয়েছে। এবার আমরা বড় লোকসানের মধ্যে পড়লাম। হাট থেকে গরু বের করতেও দেয়নি। কাল যখন বাজার খারাপ দেখছিলাম, তখন যদি হাট থেকে বের করতে দিত অন্য জায়গায় নিয়ে বিক্রি করতে পারতাম।
জামাল মন্ডল আরও বলেন, গ্রামে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষকে গরুর টাকা দেওয়া লাগবে। টাকা না দিলে তো তারা ছাড়বে না। আবার এসব গরু ফেরত নেবে না। এসব গরু প্রতি গাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খরচ দিয়ে ৩০ হাজার টাকার মতো এমনি লোকসান হয়ে যাবে। এবার আমরা বিরাট লোকসানে পড়ে গেলাম। এবার ঢাকায় গরু এনে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেছি।
ঈদের নামাজের পর একটা গরু বিক্রি করেন সিরাজগঞ্জের ব্যাপারী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, বিক্রি না হওয়ায় দুটি গরু ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম, সে সময় এনারা এসে কোরবানির জন্য এই গরুটা কিনে নিলেন। এই গরুটা ৮৯ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। অথচ আমার কেনা পড়েছে এক লাখ ১২ হাজার টাকা দিয়ে। অন্যান্য আরও খরচ আছে। সব মিলিয়ে একটা গরুতেই ২৫ হাজার টাকা লস।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি বলেন, হাটে ১৪টা গরু নিয়ে এসেছিলাম। এর মধ্যে ১৩টা গরু বিক্রি হয়েছে। সবগুলো লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে। আমার প্রায় ৪ লাখ টাকার মত লস। সবগুলো গরু কেনা। লোকসানে বিক্রি করা ছাড়া উপায় ছিল না, তাই বাধ্য হয়ে লোকসানে বিক্রি করলাম।
সূত্র ও ছবি : জাগো নিউজ
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



