আগে ঈদে শুভেচ্ছা কার্ডের চাহিদা ছিল অনেক বেশি। এমন সময়ও ছিল যখন দোকান বন্ধ করলেও ক্রেতাদের চাপের কারণে খোলা রাখতে হতো। ইফতারের সময়ও সাধারণত ১০ থেকে ২০ জন ক্রেতাকে নিয়ে ইফতার আয়োজন হতো। তখন মানুষ আন্তরিকভাবে কার্ড কিনত এবং লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করত।

কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। রাজধানীর আজাদ প্রোডাক্টসের বিক্রেতা আলী আজম জানান, মানুষ এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। কার্ডের প্রতি আগ্রহ ও আবেগ প্রায় শেষ। তিনি বলেন, “আগে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা দল বেঁধে কার্ড কিনতে আসত, পার্শ্ববর্তী এলাকায় দোকান বসত। কিন্তু এখন কার্ড বিক্রি হয় না, মানুষ ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা পাঠাতে অভ্যস্ত।”
আলী আজম আরও বলেন, কার্ডের মাধ্যমে মানুষ একে অপরের প্রতি অনুভূতি প্রকাশ করত। ছোটরা বড়দের লিখত, বড়রাও ছোটদের অনুপ্রেরণামূলক বার্তা দিত। কিন্তু এখন সেই রীতি হারিয়ে গেছে। এ বছর কিছু কার্ড তৈরি করা হলেও বিক্রি নগণ্য, আগে যেখানে ক্রেতাদের কমতি ছিল না, এখন সেখানে ক্রেতাই নেই।
পুরানা পল্টনের কিছু দোকানে দেখা গেছে, এখন ঈদের কার্ড ১০ থেকে ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দোকানিরা জানান, কার্ড ছাপালেও বিক্রি হয় না, ফলে লোকসান হয়। রাজীব নামের একজন বিক্রেতা বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম মনের কথা কার্ডে লিখে দেয়ার গুরুত্ব বোঝে না। সবাই ডিজিটাল কার্ডে সীমাবদ্ধ।”
ডিজিটাল গ্রাফিক্স ও তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম সারাংশের প্রতিষ্ঠাতা এহসান হাবীব সুমন জানান, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে বেশি সুবিধাজনক। কম সময়, কম খরচে তা একসাথে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। তবে তিনি যোগ করেন, কার্ডের মতো ব্যক্তিগত স্পর্শ ডিজিটাল বার্তায় পুরোপুরি পাওয়া যায় না। তাই বিশেষ মানুষদের জন্য এখনও কাস্টম ডিজিটাল কার্ড বানানো হয়।
সারসংক্ষেপে, ঈদের কার্ডের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, মানুষের আবেগ এখন মোবাইল ও ডিজিটাল মাধ্যমে সীমাবদ্ধ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


