পটুয়াখালী–৩ আসনে বিএনপি-সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেছেন, গলাচিপায় যে গণজাগরণ দেখা যাচ্ছে, তা স্পষ্টভাবে বিজয়ের বার্তা দিচ্ছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, আগামী ১২ তারিখ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করবেন এবং বিজয় অর্জনের পরও শান্তিপূর্ণভাবেই আনন্দ উদযাপন করবেন—এটাই তাঁদের অঙ্গীকার।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গলাচিপা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল হক নুর বলেন, পটুয়াখালী–৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বা জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে জয়ের মতো ভোটব্যাংক এখনো তৈরি হয়নি। পাশাপাশি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, যিনি আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কিন্তু বর্তমানে বহিষ্কৃত। এই বাস্তবতায় সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও বলেন, সময়ের স্বল্পতা ও নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি সবার কাছে পৌঁছাতে পারেননি, সব বাজার বা ঘরে ঘরে গিয়ে কথা বলাও সম্ভব হয়নি। অনেকেই হয়তো সরাসরি প্রার্থীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আহ্বান প্রত্যাশা করেছিলেন। সেই অপারগতার জন্য তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ১২ তারিখ ট্রাক মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
এ সময় তিনি এলাকার অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, রাস্তাঘাটের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে চান। চর ও দুর্গম এলাকায় রাতে অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নিলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না পাওয়ার যে সংকট রয়েছে, তা দূর করতে দুই উপজেলার হাসপাতাল আধুনিকায়ন করে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
কৃষকদের প্রসঙ্গে নুর বলেন, তরমুজসহ বিভিন্ন ফসল যেন তারা নির্ভয়ে চাষ করতে পারে এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়—এ নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। আধুনিক কৃষি উপকরণ ও সরকারি সুবিধা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলে ও মৎস্যচাষিদের হয়রানি ছাড়াই নিরাপদ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এই অঞ্চলের মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বেকারত্ব দূর করাকে অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রাখা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বিশেষভাবে তিনি বলেন, তাঁদের নিরাপত্তা, সম্মান ও ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার দায়িত্ব তাঁদেরই। কেউ যদি তাঁদের দিকে কুদৃষ্টি দেয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে এই জনপদকে উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও ন্যায়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলতাফ হোসেন, উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


