ঠাকুরগাঁওয়ে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে এক অন্যরকম দৃশ্য। চোখে আলো নেই, তবু থামেনি পথচলা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শরীফ আলী। নিজের হাতে লিখতে না পারলেও শ্রুতিলেখকের সহায়তায় তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপে।

মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল সকাল ১০টায় শুরু হওয়া পরীক্ষার প্রথম দিনে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা প্রথমপত্রে অংশ নেয় শরীফ। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে সে পরীক্ষা দিচ্ছে।
শহরের গোবিন্দনগর, মুন্সিরহাট মহল্লার বাসিন্দা শরীফ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জন্ম থেকেই দুই চোখে দেখতে পায় না সে। বাবা রমজান আলী, ইজিবাইকচালক। সীমিত আয়ের সংসার, কিন্তু ছেলের পড়াশোনায় থামেনি পরিবার। মুখে মুখে পড়া শুনে শেখার মধ্য দিয়েই শুরু হয় শরীফের শিক্ষাজীবন।
গোবিন্দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শেষ করে ২০২১ সালে ভর্তি হয় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
শরীফের শ্রুতিলেখক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে সদর উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শায়লা আক্তার। নীতিমালা অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রুতিলেখক হতে পারে। তবে শুরুতে শ্রুতিলেখক না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় শরীফ। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শায়লা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। পরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন পেয়ে সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেয়।
পরীক্ষা শুরুর আগে শায়লা বলে, আমার হাতের লেখায় যদি শরীফ ভাই ভালো ফল করতে পারে, সেটাই সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।
শরীফ জানায়, তার দৃষ্টি ফেরাতে মা, বাবা অনেক চেষ্টা করেছেন। সে লেখাপড়া করে চাকরি করতে চায়, যাতে তাদের নিয়ে ভালোভাবে থাকতে পারে।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়েও শরীফ নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠ নিয়েছে, সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিয়েছে। নিজের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপ দিয়ে সে আজ এসএসসি পরীক্ষার্থী।
কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানুর বেগম চৌধুরী জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১৫ মিনিট অতিরিক্ত সময়সহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার জানান, জেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ২৩ হাজার ২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে এসএসসি, দাখিল, কারিগরি শাখার শিক্ষার্থীরা রয়েছে।
শরীফের এই পথচলা শুধু একটি ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার এক শক্তিশালী উদাহরণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

