শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাচ্ছে আমেরিকান অতিপ্রাকৃত ভৌতিক সিনেমা ‘দ্য মমি’। একই দিনে বাংলাদেশের স্টার সিনেপ্লেক্সেও ছবিটি প্রদর্শিত হবে।

‘দ্য মমি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির এই নতুন সংস্করণটি আগের অ্যাডভেঞ্চারধর্মী সিনেমাগুলোর থেকে একেবারেই আলাদা। এটি একটি আর-রেটেড বডি-হরর ঘরানার চলচ্চিত্র, যেখানে ভয়াবহ ও নৃশংস দৃশ্যের উপস্থিতি রয়েছে। লি ক্রোনিন পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছেন জ্যাক রেনর, লাইয়া কস্তা, মে ক্যালামাউই, নাটালি গ্রেস ও ভেরোনিকা ফ্যালকনসহ আরও অনেকে।
গল্পটি আবর্তিত হয়েছে এক সাংবাদিক বাবা ও তার পরিবারকে ঘিরে। একসময় তারা ছিল সুখী পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের ছোট মেয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায় না, যা পরিবারটিকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
আট বছর পর হঠাৎ মরুভূমির এক এলাকায় মেয়েটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। তবে আশ্চর্যের বিষয়, তার বয়স যেন একটুও বাড়েনি—মনে হয় সে সময়ের বাইরে কোথাও ছিল।
মেয়েকে ফিরে পেয়ে পরিবার প্রথমে আনন্দিত হলেও ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক কিছু লক্ষণ চোখে পড়ে। মেয়েটির আচরণ হয়ে ওঠে অচেনা ও শীতল। সে অদ্ভুত কথা বলতে শুরু করে, আর রাতের বেলায় ঘটে অস্বাভাবিক সব ঘটনা। ধীরে ধীরে তার শরীরেও পরিবর্তন দেখা যায়, যা তাকে আর পুরোপুরি মানুষ বলে মনে হতে দেয় না।
পরিবার ও এক তদন্তকারী বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানতে পারে, মেয়েটি কোনো প্রাচীন শক্তির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এটি শুধু সাধারণ কোনো অধিকার বা ভর নয়, বরং এক ভয়ংকর রূপান্তরমূলক অভিশাপ। গল্প এগোতে থাকলে মেয়েটির শরীর ধীরে ধীরে মমির মতো রূপ নিতে থাকে।
এরপর সে অস্বাভাবিক ক্ষমতা প্রদর্শন করতে শুরু করে এবং তার উপস্থিতি পুরো ঘরে এক আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পরিবার বুঝতে পারে, তারা যাকে ফিরে পেয়েছে, সে আর আগের সেই মেয়ে নয়—বরং অন্য কিছুতে পরিণত হয়েছে।
গল্পের এই পর্যায়ে আবেগ ও ভয়ের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মা মেয়েকে আগের মতোই দেখতে চান, কিন্তু বাবা বাস্তবতা মেনে নিতে শুরু করেন। এতে পরিবারে ভাঙন দেখা দেয় এবং ভালোবাসা ও আতঙ্ক একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মেয়েটির রূপান্তর প্রায় সম্পূর্ণ হলে পরিবারকে নিতে হয় কঠিন এক সিদ্ধান্ত।
মুক্তির আগেই ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াগুলো বেশ ইতিবাচক। আগের ‘মমি’ সিনেমাগুলোর মতো অ্যাডভেঞ্চারধর্মী না হয়ে পারিবারিক ট্র্যাজেডি ও হররের মিশেলে নির্মিত হওয়ায় এটি দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অনেকেই একে ২০২৬ সালের সবচেয়ে ভয়ের সিনেমাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


