স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সকাল ৯টার পরও অফিসে দেরিতে উপস্থিতি ধরা পড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর। সোমবার (৬ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে হঠাৎ সফর চালিয়ে তিনি দেরিতে আসা কর্মকর্তাদের নাম ও ফোন নম্বর নোট করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সকাল ৯টার পর উপস্থিতি যাচাই করলে দেখা যায়, অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ অনুপস্থিত ছিলেন। দেরিতে আসা কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করা হয় এবং তাঁদের সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকার জন্য স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, “প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে নৈতিকতা থাকা প্রয়োজন। সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকা কর্মচারীদের দায়িত্বের অংশ। যারা নিয়ম মেনে চলছেন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, দেরিতে উপস্থিতি এবং অফিসে নিয়মিত উপস্থিতি বিষয়ক একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রীর এই হঠাৎ সফর স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকে নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে আসছেন, যা প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এ ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গ রোধে কার্যকর প্রমাণ হতে পারে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, দেরিতে উপস্থিতির এই বিষয়টি বিভিন্ন অফিসে নিয়মিত ঘটছে। এ ধরনের অনিয়ম রোধ করতে এখন মন্ত্রণালয় পর্যায় থেকে নিয়মিত উপস্থিতি যাচাই করা হবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নজরদারির আওতায় নেওয়া হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, “প্রতিটি সরকারি অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করা উচিত। অফিসের কার্যক্রম সচল রাখতে সকলের দায়িত্ব রয়েছে। নৈতিকতার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের কর্মীরা জানান, কর্মকর্তাদের উপস্থিতি চূড়ান্তভাবে যাচাই করার জন্য সফর এবং জরিপ করা হবে। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং করা হবে। কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে অফিসে অনিয়ম ও দেরিতে আসা কমানো যায়।
প্রতিমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ প্রশাসন ও কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ জোরদার করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বিশেষত কর্মীদের নৈতিকতা, অফিসের শৃঙ্খলা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


