সোয়াদ সাদমান : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের বুদ্ধিজীবী চত্বরে জমে উঠল সম্প্রীতির এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। ধর্ম, বর্ণ, জাতি নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সামাজিক সংগঠন ‘সমান্তরাল’-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘কুয়াশা উৎসব’।

১৫ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) এই উৎসবে মিলনমেলা বসে বাঙালি ও অবাঙালি সংস্কৃতির। শীতের কুয়াশাকে সঙ্গী করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বর রূপ নেয় রঙিন, প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর এক সাংস্কৃতিক পরিসরে। অনুষ্ঠানটি সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিভিন্ন পর্বের মধ্য দিয়ে রাত ১০টা শেষ হয়।
উৎসবকে কেন্দ্র করে চত্বরে বসানো হয় প্রায় ৫০টি স্টল। নবীন উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে সাজানো এসব স্টলে ছিলো নানান ধরনের পিঠাপুলি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, অলংকার, কাপড়, শাড়ি ও চাদর। এতে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের নবীন ছাত্র উদ্যোক্তা দেবদাস বিশ্বাসের ইউনি মার্ট সিইউ (Uni Martcu) স্টলটি সবার নজরে আসে বিভিন্ন অঞ্চলের জিনিসপত্র ও ব্যতিক্রমী প্রসাধনী সমারোহের কারণে।
তিনি বলেন, আজকে কুয়াশা উৎসব ছিল বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলা। ছাত্র জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তার মনোভাব আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস। দিন ব্যাপি স্টলে ছিলাম সব সংস্কৃতির মিশ্রণ দেখিয়েছি, এতে সবার উৎসাহ ও ভালোবাসা পেয়েছি। এই উৎসাহ আমাকে সামনের দিনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
উৎসব আয়োজন নিয়ে সমান্তরাল-এর কনভেনার অনিক সরকার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই, কুয়াশা উৎসব ২০২৬-কে সম্প্রীতি, সৃজনশীলতা ও সৌন্দর্যের এক অনন্য উদযাপনে রূপ দেওয়া। এই নীরব পরিশ্রমের শক্তিতেই গড়ে উঠেছে উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত। আমরা কৃতজ্ঞ, আমরা গর্বিত।’
অনুষ্ঠানটির বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে প্যানেল ডিসকাশন। আলোচনায় বক্তারা সমাজে সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতি চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সন্ধ্যার পর উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে নাচ ও গানের আয়োজন ক্যাম্পাসকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। শাড়ি ও চাদর মুড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বুদ্ধিজীবী চত্বর যেন হয়ে ওঠে একখণ্ড লোকজ উৎসবভূমি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


