সুদানে জাতিসংঘের পতাকাতলে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ প্রদান করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

শনিবার ঢাকায় প্রাপ্ত এক বার্তায় জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরীর হাতে এই পদকগুলো তুলে দেন।
পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন— কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মন্ডল।
২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলির আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে একটি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানে নিহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালনরত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তারা সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
চলতি বছর শান্তিরক্ষা মিশনে প্রাণ হারানো জাতিসংঘের ৩৩টি দেশের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকেও এই পদক প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী জাতিসংঘ সদর দপ্তরের শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



