চিনি ও ডায়াবেটিসের সম্পর্ক প্রায় সবারই জানা। অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। তবে অনেকেরই অজানা যে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত মিষ্টি ও শর্করাজাতীয় খাবার কমালে ক্যানসারের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার কোষ দ্রুত শক্তি সংগ্রহের জন্য শর্করার ওপর নির্ভরশীল। চিনি থেকে পাওয়া ক্যালোরি ব্যবহার করে খুব অল্প সময়েই এই কোষগুলো বিভাজিত হয়ে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অঙ্কোলজিস্ট ডা. জয়েশ শর্মা বিষয়টি একটু ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, ক্যানসার কোষের আচরণ অনেকটা স্বৈরাচারীর মতো। যেমন একজন স্বৈরাচারী ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে অর্থ ও শক্তির ওপর নির্ভর করে, তেমনি ক্যানসার কোষও দ্রুত বিস্তারের জন্য শক্তির প্রয়োজন অনুভব করে।
ডা. শর্মা বলেন, শুধু শক্তির উৎস কমিয়ে দিলেই যেমন স্বৈরাচার দুর্বল হয়ে যায় না, ক্যানসার কোষের ক্ষেত্রেও তেমনটা নয়। তাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের রিসেপ্টর থাকে, যার মাধ্যমে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী শর্করা সংগ্রহ করতে পারে। তাই কেবল চিনি বাদ দিলেই ক্যানসার কোষ ধ্বংস হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।
তিনি আরও জানান, কেউ যদি একেবারে চিনি বা শর্করা খাওয়া বন্ধ করে দেন, তাহলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পাবে না। তখন শরীর প্রোটিন ও ফ্যাট ভেঙে শর্করা তৈরি করবে। এই প্রক্রিয়ায় ক্যানসার কোষও নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তি সংগ্রহ করে নেয়। ফলে ক্যানসারকে পুরোপুরি ঠেকানো সহজ হয় না।
করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত শর্করা গ্রহণ করা উচিত নয়। অতিরিক্ত চিনি খেলে তা খরচ করার উপায়—যেমন শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম—খুঁজে নিতে হবে। ডা. জয়েশ শর্মার পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ছয় টেবিল চামচ চিনি গ্রহণ করতে পারেন।
এ ছাড়া খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবার রাখা জরুরি। ফাইবার অতিরিক্ত শর্করা শোষণ করে নেয়, ফলে হঠাৎ করে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয় বা সুগারযুক্ত সফট ড্রিংক এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ, এই ধরনের তরল দ্রুত রক্তে মিশে গিয়ে হঠাৎ সুগার স্পাইক তৈরি করে, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

