সকালের শুরুটা অনেকের কাছেই কফি ছাড়া অসম্পূর্ণ। কেউ আবার কাজের ফাঁকে কিংবা ক্লান্ত মুহূর্তে কফির কাপেই খুঁজে পান চাঙ্গা হওয়ার উপায়। কিন্তু সেই কফিতে যদি চিনি না থাকে তাহলে কি উপকার আরও বাড়ে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিনি ছাড়া কফি শুধু স্বাদের অভ্যাসই নয়, বরং এটি হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য একটি বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত।

পরিমিত মাত্রায় কফি পান মানসিক সতর্কতা বাড়ানো থেকে শুরু করে নানা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে কফির সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম যোগ হলে উপকারের জায়গায় ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি থাকে। তাই চিনি ছাড়া বা ব্ল্যাক কফির দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। এবার জেনে নেওয়া যাক, কেন চিনি ছাড়া কফি আপনার জন্য ভালো।
১. মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে
চিনি ছাড়া কফিতে থাকা ক্যাফেইন শরীরের মেটাবলিজমকে সক্রিয় করে। এটি থার্মোজেনেসিস প্রক্রিয়া বাড়ায়, যার ফলে শরীর বেশি ক্যালোরি পোড়াতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ব্ল্যাক কফি হতে পারে সহায়ক।
২. মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়ায়
ক্যাফেইন মস্তিষ্কে অ্যাডিনোসিন নামের একটি রাসায়নিকের কার্যক্রম কমিয়ে দেয়, যা ঘুমঘুম ভাব তৈরি করে। একই সঙ্গে ডোপামিন ও নরএপিনেফ্রিন বাড়িয়ে মনোযোগ, সতর্কতা ও চিন্তাশক্তি উন্নত করে।
৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর
কফিতে রয়েছে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিডসহ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। চিনি ছাড়া কফিতে এসব উপাদানের কার্যকারিতা আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়।
৪. শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়ায়
ব্যায়ামের প্রায় ৩০ মিনিট আগে চিনি ছাড়া কফি পান করলে শরীর বেশি শক্তি পায়। ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপ্ত করে, ফলে সহনশীলতা বাড়ে এবং ব্যায়ামের পারফরম্যান্স উন্নত হয় তাও বাড়তি ক্যালোরি ছাড়াই।
৫. টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে
গবেষণায় দেখা গেছে, চিনি ছাড়া কফি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা কম হয়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাসে সহায়ক।
৬. হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো
নিয়মিত ব্ল্যাক কফি পান হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। কফির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমায় এবং রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করে, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
৭. লিভারকে সুরক্ষা দেয়
চিনি ছাড়া কফি লিভারের জন্যও ভালো। এটি ফ্যাটি লিভার, হেপাটাইটিস ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। কফির উপাদানগুলো লিভারের ক্ষতিকর এনজাইমের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৮. দীর্ঘায়ুতে সহায়ক
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত চিনি ছাড়া কফি পান করেন, তাঁদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম। হৃদরোগ ও স্নায়বিক রোগের আশঙ্কাও কমতে পারে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
চিনি ছাড়া কফি অভ্যাসে আনলে স্বাস্থ্যের নানা উপকার পাওয়া সম্ভব। তবে অতিরিক্ত কফি পান অনিদ্রা, অস্থিরতা বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে পরিমিত পরিমাণে কফি পান করাই সবচেয়ে ভালো। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র: এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


