কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশুটি এখনো বেঁচে আছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে রবিবার সকাল ৯টায় টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্টি আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির মধ্যে সংঘাতের জেরে ছোঁড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র।
তবে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে তিনি বলেন, ‘শিশুটি এখনও বেঁচে আছে। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
শিশু আফনান (৭) টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকার জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘রবিবার সকালে টেকনাফে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকা সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অভ্যন্তরে বিদ্রোহী গোষ্টি আরাকান আর্মি এবং রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এতে দুইপক্ষের মধ্যে অন্তত ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়। এক পর্যায়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্টির সদস্যরা সীমান্তের শূণ্যরেখার দিকে পিছু হটে। এতে সকাল ৯টার দিকে আবারও উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এসময় মিয়ানমার দিক থেকে ছোঁড়া গুলি সীমান্তের বাংলাদেশি এক বসত ঘরে আঘাত হানে। এতে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। শুরুর দিকে শিশুটি মারা গেছে বলে সব দিকে প্রচার হয়। শিশুটির পিতা-মাতাও বুঝতে না পেরে শিশুটির মৃত্যু সংবাদ প্রচার করে। পরে দেখা গেছে শিশুটি বেঁচে আছে। তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুপুরের দিকে ওপারের সংঘর্ষে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এসময় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করে হেফাজতে নেয়।’
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে ছোঁড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ার পর আশংকাজনক হওয়ায় মারা গেছে বলে প্রচার হয়। এতে স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করেছে। এখান নিশ্চিত হওয়া গেছে শিশুটি মারা যায়নি। তবে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংঘাতে পালিয়ে আসা ৪৯ জন রোহিঙ্গা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। বিজিবি তাদের হেফাজতে নিয়ে যাবে।’
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


