ইরানে সরকার আরোপিত নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট সোমবার (৯ মার্চ) দশম দিনে পদার্পণ করেছে, যার ফলে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘নেটব্লকস’ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানিরা এখন পর্যন্ত টানা ২১৬ ঘণ্টা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রায় সম্পূর্ণ শাটডাউনের সমান। রাষ্ট্রীয় এই কঠোর বিধিনিষেধের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদানও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেটব্লকস তাদের দৈনিক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রীয়ভাবে চাপিয়ে দেওয়া এই শাটডাউনের মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ইরানি নাগরিকের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় সাধারণ নাগরিকেরা জরুরি সেবা গ্রহণ, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের এই পদক্ষেপকে তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার একটি চরম পন্থা হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
⚠️ Update: #Iran's internet blackout has entered its tenth day with connectivity at 1% of ordinary levels after the 216th hour.
As regional hostilities intensify, some 90 million Iranians are silenced and cut off from the global internet under a state-imposed shutdown. pic.twitter.com/FNrSKvqBBP
— NetBlocks (@netblocks) March 9, 2026
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ দিন ধরে চলা এই দীর্ঘমেয়াদি ব্ল্যাকআউট ইরানের সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের পাশাপাশি দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতেও বড় ধরনের আঘাত হানছে। বিশেষ করে অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা এবং যোগাযোগ নির্ভর খাতগুলো এখন সম্পূর্ণ অচল।
নেটব্লকস ক্রমাগত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং জানিয়েছে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি দপ্তর ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এই ‘ডিজিটাল নীরবতা’ কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ভেতরে ঠিক কী ঘটছে, তা বহির্বিশ্বের জন্য জানা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তথ্যের এই শূন্যতা দেশটিতে চলা চলমান সংঘাত বা বিক্ষোভের খবর প্রচারকেও অসম্ভব করে তুলেছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
নেটব্লকস উল্লেখ করেছে, ইন্টারনেট সংযোগ ১ শতাংশে নামিয়ে আনার অর্থ হলো দেশটিতে ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ৯ কোটি মানুষকে এভাবে নীরব করে দেওয়ার ঘটনাকে সমসাময়িক ডিজিটাল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট শাটডাউন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে তেহরান কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


