গতকাল রোববার ও আজ সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং গ্রাহকদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক গ্রাহক এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে নিজেদের ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংক সাত দিন বন্ধ থাকায় টাকা লেনদেনের বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এটিএম বুথের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। কিন্তু ঈদের ছুটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্ন এটিএম সেবা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক ব্যাংকের বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে টাকা উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা।
গতকাল রোববার ও আজ সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং গ্রাহকদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক গ্রাহক এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে নিজেদের ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
রাজধানীর মৌচাক, মালিবাগ, মগবাজার ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশেষ করে দুর্বল ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর অনেক এটিএম বুথে টাকা না থাকায় সেবা অচল হয়ে রয়েছে। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ভালো অবস্থানে থাকা কিছু ব্যাংকও নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর অঘোষিত সীমা আরোপ করেছে।
আবার যেসব ব্যাংকের বুথ চালু রয়েছে, সেগুলোর কোনো কোনোটি থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব বুথে অন্য ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেখানেও টাকা উত্তোলনে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে ছুটির এই সময়ে বুথ থেকে বুথে ঘুরেও প্রয়োজনীয় অর্থ না পেয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইফুল ইসলাম মালেক নামের একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ঈদের আগে এটিএম বুথে টাকা নেই—এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, এটি সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা। মানুষ নিজের কষ্টের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার বুথে ঘুরছে, লাইনে দাঁড়িয়ে অপমানিত হচ্ছে, আর ব্যাংকগুলো নির্লজ্জের মতো চুপ করে আছে। কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও যদি মানুষ নিজের টাকা তুলতে না পারে, তাহলে এসব ব্যাংকের সেবা আসলে কার জন্য?”
মিরপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম লিখেছেন, “মিরপুরের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের তিনটি বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারলাম না। এটিএম বুথে টাকা নেই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা না পেয়ে ফিরে যায়নি। এখন কোনো ব্যাংক যদি নিজস্ব গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে ব্যর্থ হয়, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক যদি এ বিষয়ে অবহেলা করে বা গ্রাহকসেবায় ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে ঈদ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবারই বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট থেকে তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই সার্কুলারে বলা হয়েছিল—ঈদের ছুটির সময় এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং বুথগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে হবে। এছাড়া পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও এমএফএস সেবা সচল রাখা এবং গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন ও এসএমএস সতর্কবার্তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
প্রসঙ্গত, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক টানা সাত দিন বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যাংকগুলো খোলার আগ পর্যন্ত বুথগুলোতে নগদ অর্থের এই সংকট কাটবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



